ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ (ডিএসসিসি) দুই সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত ওয়ার্ডগুলোয় নির্বাচন প্রশ্নে দেওয়া রুল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ওই নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে ইসির করা পৃথক তিনটি লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেওয়া হয়। রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রুল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। তবে এই নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত হয়নি। ফলে নির্বাচন স্থগিত থাকছে। রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও তৌহিদুল ইসলাম। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান খান। এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন চেয়ে রিটের পক্ষভুক্ত হওয়া বিএনপি মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়ালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবউদ্দিন খোকন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ নভেম্বর মেয়র আনিসুল হকের আকস্মিক মৃত্যুর পর নির্বাচন কমিশন ৯ জানুয়ারি ডিএনসিসির মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুসারে, দুই সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি করে ৩৬টি ওয়ার্ডেও ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোট হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ডিএনসিসির মেয়র পদে উপনির্বাচন ও নতুন যুক্ত ওয়ার্ডগুলোয় নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে দুটি রিট হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৭ জানুয়ারি বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ডিএনসিসি নির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন। সেই সঙ্গে, ওই নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে গত ৪ ফেব্রুয়ারি চেম্বার বিচারপতি বিষয়টি শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। ডিএনসিসি মেয়রের শূন্য পদে উপনির্বাচনের ঘোষিত তফসিলের স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দায়ের করেন রাজধানী উত্তরের বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও ভাটারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে ইসি পৃথক লিভ টু আপিল করলে চেম্বার বিচারপতির আদালত হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন রিট আবেদনকারীপক্ষ সময়ের আবেদন জানালে আদালত ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ইসির পক্ষে সময়ের আবেদন করা হলে আপিল বিভাগ সময় দেন এবং আজ রোববার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here