পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ডানেডিনে টে্ইলরের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে সিরিজ বাঁচালো নিউজিল্যান্ড। এদিন ইংল্যান্ডের দেয়া ৩৩৬ রানের টার্গেটে পাঁচ উইকেটে ৩ বল হাতে রেখেই জয় পায় কিউইরা। সিরিজে এখন ২-২ সমতা বিরাজ করছে।

আগামী শনিবার (১০ মার্চ) ক্রাইস্টচার্চে সিরিজ নির্ধারণী পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায়।

ওয়ানডে ইতিহাসের সপ্তম সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়েছে নিউজিল্যান্ড। টেলরের অপরাজিত ১৮১ রানে তিন বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ জেতে কিউইরা।

২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার পালেকেল্লেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে করা ১৩১-ই ছিল টেলরের সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস। সেটা ছিল তার ২৭তম জন্মদিনে। এবারেরটা করলেন জন্মদিনের একদিন আগে। বৃহস্পতিবারই টেলরের ৩৪তম জন্মদিন। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস টপকে সেটা নতুন করে লিখলেন তিনি। সর্বোচ্চ ইনিংসটা এবার নিয়ে গেলেন ১৮১ রানে। জন্মদিনের একদিন আগে নিজেকে ‘উপহার’টা নিজেই বুঝি দিলেন ব্লাক ক্যাপস তারকা।

টেলর যখন ক্রিজে আসেন তখন নিউজিল্যান্ডের আকাশে ঘন-কালো মেঘ। আর যখন ফেরেন তখন তার নামের পাশে ১৪৭ বলে অপরাজিত ১৮১ রান। তার ইনিংসের মত ঝকঝক করছিল স্বাগতিকদের আকাশও। এটা নিউজিল্যান্ডের মাটিতে যেকোনো ব্যাটসম্যানের ওয়ানডের সর্বোচ্চ ইনিংস। তাও আবার হাতের ইনজুরি নিয়েই এই ইনিংস খেলেন টেলর।

২.৪ ওভারে দলের রান ২। তাও আবার ২ উইকেট হারিয়ে। হিসাবের খাতা খোলার আগেই ফেরেন দুই ওপেনার কলিন মুনরো ও মার্টিন গাপটিল। এর মধ্য মুনরো আবার ফিরেছেন ইনিংসের প্রথম বলে।

চারনম্বরে ব্যাটে আসেন টেলর। তাকে সাহায্য করেছেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন (৪৮ বলে ৪৫), টম ল্যাথাম (৬৭ বলে ৭১) এবং কলিন ডি গ্রান্ডহোমে (১২ বলে ২৩)। ২০৪ ওয়ানডের অভিজ্ঞতা দিয়ে টেলর বুঝিয়ে দিলেন তিনি কী করতে পারেন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ল্যাথামের সঙ্গে তার ১৮৭ রানই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা লিখে দেয়। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেও দুজনে ১৭৮ রানের জুটি গড়েছিলেন।

ল্যাথাম ফিরলেও বাকি কাজটা অন্যদের নিয়ে প্রায় একাই সেরেছেন টেলর। ডিফেন্স, আক্রমণ, সিঙ্গেল, বাউন্ডারি, ওভার-বাউন্ডারি কী করেননি ক্রিজে দাঁড়িয়ে। বাহারি সব স্টাইলে নিজের ১৯তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন টেলর। তার ইনিংসে ছিল ১৭টি চার ও ৭টি ছক্কার মার।

রান তাড়া করে জেতার ক্ষেত্রে টেলরের এই ইনিংস ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের তালিকায় থাকল চার নম্বরে। এই তালিকায় প্রথম আছেন, অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়াটসন। ২০১১ বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ৯৬ বলে অপরাজিত ১৮৫ রান করেছিলেন অজি ওপেনার।

ওয়াটসন ছাড়া বাকি দুজন ভারতের। ২০১২তে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৪৮ বলে ১৮৩ রান করেন বিরাট কোহলি। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ২০০৫ সালে জয়পুরে ১৪৫ বলে ১৮৩ রান করেছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে জনি বেয়ারস্টো ও জো রুটের জোড়া শতকে ৩৩৫ রানের বিশাল স্কোর গড়ে ইংল্যান্ড। তবে সফরকারীদের স্কোর বোর্ডটা আরো চওড়া হতে পারত। কিন্তু মিডল অর্ডার আর টেলেন্ডারদের ব্যর্থতায় এখানেই থামতে হয় তাদের।

ওপেনিং জুটিতে ৭৭ রান তোলার পর আউট হন জেসন রয় (৪২)। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৯০ রান তোলেন রুট ও বেয়ারস্টো। দলীয় ২৬৭ রানের মাথায় ফেরেন বেয়ারস্টো। ১০৬ বলে ১৪টি চার ৭টি ছক্কায় ১৩৮ রান করেন তিনি। ছয়টি চার ও দুই ছক্কায় ১০১ বলে রুট করেন ১০২ রান।

এই দুজন ফেরার পরই তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। এক উইকেটে ২৬৭ থেকে তাদের ইনিংস থামে ৩৩৫ রানে। শেষ সাত ব্যাটসম্যানের মাত্র দুজন দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পেরেছেন। তাও আবার ব্যাটিং লাইনআপের ৯ ও ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান। আদিল রশিদ ১১ আর টম কিউরান করেন ২২ রান।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ইস সোদি ৪টি, কলিন মুনরো ও ট্রেন্ট বোল্ট দুটি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ৫ উইকেটে জয়ী নিউজিল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ডের ইনিংস: ৩৩৯/৫ (৪৯.৩ ওভার)

(মার্টিন গাপটিল ০, কলিন মুনরো ০, রস টেইলর ১৮১, টম লাথাম ৭১, হেনরি নিকোলাস ১৩, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ২৩; স্টোকস ৪৫/১, ওয়াকেস ৪২/১)।

ইংল্যান্ড ইনিংস: ৩৩৫/৯ (৫০ ওভার)

(জ্যাসন রয় ৪২, জনি বেয়ারস্টো ১৩৮, জো রুট ১০২, ইয়ন মরগ্যান ৫, জস বাটলার ০, স্টোকস ১; শধি ৪/৫৮)

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ:  রস টেইলর (নিউজিল্যান্ড)

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here