বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচি থেকে নেতাকর্মীকে আটকের পর তা ভণ্ডুল হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পূর্বঘোষিত এ অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেয়া কয়েকজন নেতা কর্মীকে আটক করতে গেলে সেখানে হট্টগোল বেধে যায়। এ ঘটনার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘটনার নিন্দা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, পুলিশ বিনা উস্কানিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালিয়েছে—আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ঘটনার পর বিএনপির এক ঘণ্টার কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ে মিনিট দশেক আগেই শেষ করা হয়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির কর্মসূচি শুরু হয়—ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে স্লোগান দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান দলের নেতা-কর্মীরা।

মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এ কর্মসূচিতে। ২০ দলীয় জোটের কয়েকজন শরিক নেতারাও ছিলেন।

গণ্ডগোল শুরু হলে মির্জা ফখরুল দাঁড়িয়ে পুলিশের ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে নিজে বক্তব্য না দিয়েই কর্মসূচি শেষ করে দেন।

বিএনপির এ অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে সকাল ১০টা থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পুলিশের সাঁজোয়া যান ও জল কামানের গাড়িও রাখা হয়।

কর্মসূচির কারণে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। অন্যপাশ দিয়ে উভয়মুখী চলের ব্যবস্থা করে পুলিশ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।

সেই থেকে তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

ওই রায়ের পর বিএনপি পাঁচ দফায় বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, অবস্থান, প্রতীকী অনশন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটি।

 

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here