শেষ ষোলোর প্রথম লেগে উত্তাপ ছড়িয়ে ইতালিতে খেলতে গিয়ে জুভেন্টাসকে ২-২ গোলে রুখে দিয়েছিল টটেনহাম হটস্পার। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফিরতি লিগের ম্যাচে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে দলকে জয় উপহার দিলেন জুভেন্টাসের দুই আর্জেন্টাইন তারকা গঞ্জালো হিগুয়েন ও পাওলো দিবালা।

বল গ্লোভস ছুঁয়ে গেল জিয়ানলুইজি বুফনের। মাটিতে পড়ে থেকে নির্বাক নয়নে দেখলেন ধীরগতিতে বল স্পর্শ করলো জাল। চোখের সামনে ঘটে গেল, কিন্তু কিছুই করতে পারলেন না সময়ের সেরা গোলরক্ষক। জুভেন্টাসের বিদায়ের দৃশ্যটা হয়তো তখনই দেখে ফেলেছিল অনেকে। কিন্তু হার না মেনে বুক চিতিয়ে লড়াই করে ইতালিয়ান ক্লাবটি দেখালো তাদের শক্তি।  ওয়েম্বলির ৯০ মিনিট শেষে উৎসবে মাতলো তারা। ঘরের মাঠে প্রথম লেগ ২-২ গোলে ড্র করলেও ফিরতি লেগের এই জয়ে ৪-৩ গোলের অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

দুই আর্জেন্টাইনের জাদুতে অসাধারণ এক জয় পেয়েছে ‍জুভেন্টাস। ঘরের মাঠের হতাশাজনক পারফরম্যান্স ও ওয়েম্বলির শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে তারা উৎসব করেছে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার। ৩ মিনিটের এক ঝড়ে পুরো দৃশ্যই পাল্টে দেন গনসালো হিগুয়েইন ও পাউলো দিবালা। ৬৪ মিনিটে জুভেন্টাসকে সমতায় ফেরান হিগুয়েইন, আর ৬৭ মিনিটে এগিয়ে নেন দিবালা।

একেবারে ঠিক সময়ে জ্বলে ওঠেন হিগুয়েইন। স্টিফান লিচস্টেইনারের চমৎকার ক্রস সামি খেদিরা করলেন হেড। উড়ন্ত ওই বলেই ডান পায়ের ছোঁয়ায় জালে জড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। শুধু গোল করেই থামলেন না হিগুয়েইন, মিনিট তিনেক পর আর্জেন্টাইন সতীর্থ দিবালাকে দিয়ে করালেন আরেকটি। ওই গোলটাই জুভেন্টাসকে তুলে দিলো কোয়ার্টার ফাইনালে।

ওয়েম্বলির প্রথমার্ধটা ছিল কিন্তু অন্যরকম, টটেনহামের আধিপত্যের। বল পজেশনে জুভেন্টাসের চেয়ে একটু পিছিয়ে থাকলেও সুযোগ তৈরিতে অনেক এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু ভাগ্য কিছুইতেই সহায় হচ্ছিল না তাদের। প্রথম লেগ ২-২ গোলে ড্র করে আসায় ঘরের মাঠে এমনিতেই সুবিধাজনক জায়গায় থেকে নেমেছিল স্পাররা, সেই আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করেই একের পর এক আক্রমণ চালাচ্ছিল তারা সফরকারীদের রক্ষণে। যদিও বুফনের কড়া পাহারা ভাঙা যাচ্ছিল না। হ্যারি কেইন একবার বুফনকে ফাঁকি দেওয়ার পর বল মেরেছিলেন বাইরের জালে। আরেকবার দুর্দান্ত এক হেড প্রতিহত করেছিলেন বুফন। ডেল আলির দূরপাল্লার শটও আটকে যায় ইতালিয়ান গোলরক্ষকের বিশ্বস্ত হাতে।

বুফনের বীরত্ব তো ছিলই, ভাগ্যটাও সঙ্গ দিচ্ছিল না টটেনহামকে। সন হিয়াং-মিনের শট যেমন পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। যদিও দক্ষিণ কোরিয়ান উইঙ্গারই খোলেন জুভেন্টাসের গোলমুখের তালা। সনের চমৎকার লক্ষ্যভেদেই ৩৯ মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কিয়েরন ট্রিপিয়ারের ক্রস ছোট বক্সের সামনে থেকে বুদ্ধিদীপ্ত শটে বল জড়ান জালে।

তাতে টটেনহামের কোয়ার্টার ফাইনালের আশা জাগলেও ‘অভিজ্ঞ’ জুভেন্টাস সেটা হতে দেয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের তিন মিনিটের ঝড়ে পরের রাউন্ডে নাম লেখায় ইতালিয়ান ক্লাবটি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here