গ্রীস্মের ফুটিফাটা গরমে নিজেকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে চান? তাহলে অবশ্যই খাদ্য তালিকায় রাখুন সবুজ শাক সবজি। এতে পেট যেমন ঠাণ্ডা থাকবে, তেমনি নিজেও থাকবেন তরতাজা। তাই গুণাগণ দেখে ডায়েটে রাখুন এই চার সবজি।

ঝিঙ্গা

গ্রীষ্মে শরীরে জলের প্রয়োজন মেটায় ও পেট ঠান্ডা রাখে ঝিঙ্গা। অ্যাসিডিটির সমস্যা রোধ করে। যারা স্বাস্থ্যসচেতন ও ওজন নিয়ে বিব্রত তারা অনায়াসে ঝিঙ্গা খেতে পারেন। কারণ এতে ক্যালরির মাত্রা কম। এছাড়া ডায়েবেটিস রোগিদের জন্যও উপকারী ঝিঙ্গা। অকালপক্কতা রোধ করে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। লিভার ডিটক্সিফাই করতেও সহায়ক ঝিঙ্গা। এতে থাকা ক্যালশিয়াম, কপার, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

লাউ

ক্যালরির মাত্রা কম থাকায় ওজন কমাতে সহায়ক লাউ। হজমে সাহায্য করে সঙ্গে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যাও প্রতিরোধ করে। শরীর ঠাণ্ডা রাখে। লাউয়ের ৯২ শতাংশ জলীয় হওয়ায় শরীরে পানির প্রয়োজন মেটায়। হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে লাউ। এছাড়া ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়ক। ডায়াবেটিস রোগিদের রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ ঠিক রাখতেও সহায়ক এটি। এতে থাকা ভিটামিন সি, বি, কে, এ, আয়রন, ফোলেট, পটাশিয়াম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ইউরিনারি ট্র‌্যাক্ট ইনফেকশন কমায়। পোস্ট ওয়ার্কআউট ড্রিঙ্ক হিসেবে লাউয়ের রস খেলে দেহে গ্লুকোজ লেভেল ঠিক থাকে।

সজনে ফুল-ডাঁটা

জ্বরে মুখে রুচি ফেরানোর জন্য সজনে ফুল উপকারী। ঋতু পরিবর্তনের সময় সাধারণ সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করে সজনে। যে কোনও ইউরিনারি ট্র‌্যাক্ট ইনফেকশন সারিয়ে তুলতে সহায়ক সজনে ফুল। এতে থাকা এসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড যেমন আইসোলিউসিন, লিউসিন, লাইসিন ও ক্যালশিয়াম শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সজনে ফুল ও ডাঁটায় থাকা ভিটামিন বি, সি, ও, কে ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সজনে রক্ত পরিষ্কার করে এবং ত্বকে ব্রন-ফুসকুড়ি জাতীয় সমস্যা কমাতে সহায়ক। সজনতে থাকা বি কমপ্লেক্স ভিটামিন খাবার হজমে সাহায্য করে।

উচ্ছে/করলা

আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি-এর উৎস করলা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও মরশুমি সর্দি-কাশি ইনফেকশন প্রতিরোধ করে। ফাইবারে ভরপুর করলা কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক। করলায় থাকা ইনসুলিন গোত্রের উপাদান পলিপেনটাইড পি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমায় এটি। স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখে। ত্বক ও চুলের নানা সমস্যা যেমন ব্রণ, ফুসকুড়ি, এগজিমা, সোরিয়াসিস প্রতিরোধ ও কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। ত্বককে রোদের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচায় উচ্ছে।

পটল

পেট ঠাণ্টা রাখার পাশাপাশি পটলে থাকা কম ক্যালরির মাত্রা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক পটল।
যেকোনও গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় উপকারী। পটলে রয়েছে রক্ত পরিষোধক গুণ ও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার গুণ। সাধারণ সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা, জ্বর প্রতিরোধ করে। হজমে সহায়ক পটল লিভারকেও সুস্থ রাখে। এতে থাকা ভিটামিন এ ও সি ফ্রি র‌্যাডিকলসের সঙ্গে লড়াই করে ত্বকের বার্ধক্য রুখে দেয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here