কাঠমান্ডুর বিমান দুর্ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন শাহরিন আহমেদ। অথচ প্রতিমুহূর্তে সেই দুঃস্বপ্ন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে। কিছুতেই বের হতে পাড়ছেন না দুর্ঘটনার ঘোর থেকে। এখনো তার কানে বাজে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার সেই বিকট আওয়াজ। আর আক্রান্ত যাত্রীদের হাহাকার।

ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন শাহরিন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় তার শরীরের ৫ শতাংশে গভীর ক্ষত হয়েছে এবং পায়ে রয়েছে ফ্র্যাকচার। আগুনে পুড়ে গেছে পিঠ, তা নেভাতে গিয়ে পুড়েছে তার হাতও। তার অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ থাকলেও ট্রমার (ঘোর) মধ্যে আছেন শাহরিন।

বার্ন ইউনিটের ভিআইপি কেবিন থেকে শাহরিন বলেন, ‘আমি ট্রমার মধ্যে আছি। ওই সময়ের কিছুই মনে করতে চাই না। আমার জন্য দোয়া করেন, যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠি। যত তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে পারব, ততো তাড়াতাড়ি এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে পারব।’

স্কলাসটিকা স্কুলের উত্তরা শাখার জুনিয়র এই প্রোগ্রাম অফিসার নেপালের উদ্দেশে বিমানে উঠেছিলেন ছয় সদস্যের এক পর্যটক দলের সঙ্গে। তাদের মধ্যে চারজনই প্রাণ হারিয়েছেন মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায়। বিমানের সুবিধাজনক স্থানে সিট পড়ায় বেঁচে গেছেন বলে মনে করেন শাহরিন। আর তার এ বেঁচে ফেরাকে ‘মিরাকল’ বলছেন স্বজনরা। তবে অনেক চেষ্টা করেও শাহরিন মন থেকে মুছে ফেলতে পারছেন না ভয়াল সেই স্মৃতি। তিনি বলেন, “আমি উইংসের সামনে ছিলাম। ডানপাশের ‘৬এফ’ এ-তে। পড়ার পর তো কিছুই বুঝিনি, বাড়ি খেয়ে পড়ে যাই। হয়তো সামনের দিকে থাকার কারণেই বেঁচে গেছি।”

তিনি আরও বলেন, ‘প্লেনটা নরমালি ছিল, জাস্ট ল্যান্ড করার সময় বাম দিকে টিল্ট করে নামছিল। আমি তখন বলছিলাম, লেফটে এমন টিল্ট করে ল্যান্ড করছে কেন? প্লেন ক্র্যাশ করবে তো! এরপরই বিধ্বস্ত হয়।’

গত সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় চার ক্রুসহ নিহত হয়েছেন ২৬ বাংলাদেশি। আহত বাকি ১০ বাংলাদেশির মধ্যে সর্বপ্রথম দেশে ফিরেছেন শাহরিন। তবে দুর্ঘটনার পর তাকে কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে দেশে এনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রতিদিনই তাকে হাসপাতালে দেখতে আসছেন পরিবার ও স্বজনরা। কিন্তু তাতেও দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তাড়া করে ফিরছে তাকে। এর পর থেকে উড়োজাহাজে উঠতে ভয় পাবেন বলেও জানান শাহরিন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here