মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা-উপজেলা হাসপাতালসহ সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিয়মিত কর্মস্থলে যান না। আবার কেউ কেউ বিলম্বে উপস্থিতি হলেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবস্থান করেন না। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করারও অভিযোগ রয়েছে। আর এতে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। মন্ত্রণালয় থেকে বার বার নির্দেশ দেওয়ার পরও কাজ হয়নি। এমনকি বায়োমেট্রিক মেশিন বসিয়েও উপস্থিতি বাড়ানো যায়নি।

তাই উপায় না দেখে উপস্থিতি মনিটরিং করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৭৫ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একেকজন কর্মকর্তা নিয়মিত পরিদর্শন করবেন এক বা একাধিক হাসপাতাল। পরিদর্শনকালে যদি কারো অনুপস্থিতি পাওয়া যায়, তা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেবেন তারা। মন্ত্রণালয় পরবর্তীতে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য ও বিশ্বস্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হাসপাতাল বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিটের অতিরিক্ত সচিবকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঔষধ প্রশাসন ও আইনের অতিরিক্ত সচিবকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উন্নয়নের অতিরিক্ত সচিবকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিবকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাজেট বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে বরিশাল জেলা হাসপাতালসহ জেলার সব উপজেলা হাসপাতাল, প্রশাসন অধিশাখার যুগ্মসচিবকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাগেরহাট জেলা হাসপাতালসহ জেলার সব উপজেলা হাসপাতাল পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র এ কয়েকজনকেই নয়, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব, সিনিয়র সহকারী ও সহকারী সচিব পর্যায়ের ৭৫ কর্মকর্তাকে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনের দায়িত্ব পেয়েছেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাসের যে কোনো দিন আকস্মিকভাবে স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। পরির্দশনকালে প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতি নিশ্চিত, সার্বিক সমস্যা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে হাসপাতাল প্রধানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। অতিরিক্ত সচিবরা স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান পরির্দশনের পাশাপাশি অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারবেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।

এদিকে গত বছরের ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বায়োমেট্রিক মেশিনে ইলেকট্রনিক হাজিরার মাধ্যমে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতি মনিটরিং করা হয়। এর অংশ হিসেবে ওই বছরের ১ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত এক মাসের হাজিরা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ওই মাসে প্রায় ৫৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মস্থলে হাজির হননি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৬১০টি। আর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পদের সংখ্য ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫০ জন। সেখানে কর্মরত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৫৮ জন। সব মিলিয়ে ২৯ হাজার ৭৯২ পদ শূন্য রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে এসব পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবার ৫৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিতি না হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here