১৮ নম্বর ওভারে উইকেট মেইডেন নিয়ে বাংলাদেশের দিকে ম্যাচ হেলিয়ে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু শেষমুহূর্তে আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশের পকেট থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়েছেন ভারতের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান দীনেশ কার্তিক।

শেষ তিন ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৩৫ রান। ১৮তম ওভার করতে এসে মুস্তাফিজুর রহমান নেন উইকেট মেইডেন। ওই ওভার থেকে আসে মাত্র একটি লেগ বাই, সাজঘরে ফিরে যান মনিশ পান্ডে।

১৯তম ওভারের প্রথম বলে উইকেটে আসেন দীনেশ কার্তিক। ভারতের জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ছিল ১২ বলে ৩৪ রান। রুবেল হোসেনের করা ওই ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা মারে কার্তিক। পরের বলে মারেন বাউন্ডারি। পরের বলে আবারও ছক্কা মেরে ভারতকে ড্রাইভিং সিটে বসান কার্তিক। চতুর্থ বলে ডট দিয়ে খানিক নিয়ন্ত্রণ আনলেও শেষের দুই বলে কার্তিক আরও ৬ রান তুলে নেন। লক্ষ্যমাত্রা নেমে আসে ৬ বলে ১২ রানে।

নিয়মিত বোলারদের ওভার শেষ হয়ে যাওয়াতে ম্যাচ নির্ধারণী ওভার করতে দেয়া হয় সৌম্য সরকারকে। প্রথম ৫ বলে তিনি দেন মাত্র ৭ রান। পঞ্চম বলে ফিরিয়ে দেন বিজয় শংকরকে। শেষ বলে ভারতের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৫ রান। সৌম্যর করা অফস্টাম্পের বাইরের বলটি এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে মাঠের বাইরে ফেলে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করেন দীনেশ কার্তিক। হতাশায় পিচের উপরেই শুয়ে পড়েন সৌম্য সরকার।

মাত্র ৮ বলে ২৯ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে ম্যাচ শেষ করেন কার্তিক। জিতে নেন নিদাহাস ট্রফির চ্যাম্পিয়ন ট্রফি, নির্বাচিত হন নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়। তার সতীর্থ ওয়াশিংটন সুন্দর জিতেছেন সিরিজ সেরা পুরষ্কার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬৬/৮ (তামিম ১৫, লিটন ১১, সাব্বির ৭৭, সৌম্য ১, মুশফিক ৯, মাহমুদউল্লাহ ২১, সাকিব ৭, মিরাজ ১৯*, রুবেল ০, মুস্তাফিজ ০*; উনাদকাত ২/৩৩, সুন্দর ১/২০, চাহাল ৩/১৮, ঠাকুর ০/৪৫, শঙ্কর ০/৪৮)

ভারত: ২০ ওভারে ১৬৮/৬ (রোহিত ৫৬, ধাওয়ান ১০, রায়না ০, রাহুল ২৪, পান্ডে ২৮, শঙ্কর ১৭, কার্তিক ২৯*, সুন্দর ০*; সাকিব ১/২৮, মিরাজ ০/১৭, রুবেল ২/৩৫, নাজমুল ১/৩২, মুস্তাফিজ ১/২১, সৌম্য ১/৩৩)

ফল: ভারত ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: দীনেশ কার্তিক

ম্যান অব দ্যা সিরিজ: ওয়াশিংটন সুন্দর

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here