বাংলাদেশ নয় বরং মিয়ানমারেই নিজেদের বাড়ি-ঘরে পুনর্বাসিত হতে চায় সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকা পড়া রোহিঙ্গারা। এক্ষেত্রে নিজ গ্রামে পুনর্বাসিত করার শর্তে তারা ফিরে যেতে রাজি বলেও জানিয়েছে। তবে সাময়িকভাবে মিয়ানমার সরকারের তৈরি ট্রানজিট ক্যাম্পে থাকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তারা। তাদের আশঙ্কা, ট্রানজিট ক্যাম্পে উঠলে তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদে সেখানে বন্দি রাখা হবে। নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের এক নেতার বরাত দিয়ে সোমবার এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হলেও তা কার্যকরের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। কেবল গত বছর আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৭ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৮৮ জনকে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। তার উপর রাখাইনে এখনও রোহিঙ্গাদের ওপর নানাভাবে নির্াতন চলছে। বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের ফেলে যাওয়া গ্রাম, মসজিদ, স্কুলসহ নানা স্থাপনা। তাই এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের ট্রানজিট ক্যাম্পে ফিরতে রাজি নন নো ম্যানস ল্যান্ডের রোহিঙ্গারা।
কাঁটা তারের ফাঁক দিয়ে সাংবাদিকদেরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিল মোহাম্মদ নামের ৫১ বছর বয়সী ওই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করে আমরা মিয়ানমারে ফেরত যাব না, আবার বাংলাদেশেও ঢুকবো না। বাংলাদেশে প্রবেশের কোনও ইচ্ছে আমাদের নেই। আমরা বাঙালি নই, আমরা মিয়ানমারের আসল নাগরিক।’
তিনি আরও বলেন, নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকা প্রায় ৬,০০০ রোহিঙ্গা কেবল তখনই মিয়ানমারে ফিরে যাবে যদি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেনা অভিযানের সময় জ্বালিয়ে দেওয়া ঘর-বাড়ির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে তাদের পুরনো গ্রামে পুনর্বাসিত হওয়ার অনুমতিও দিতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল রেড ক্রস বর্তমানে নো ম্যানস ল্যান্ডের রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিচ্ছে। বাংলাদেশি অংশে এসে তারা এ সহায়তা গ্রহণ করে।
জানুয়ারিতে সম্পাদিত ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের পাঠানো প্রথম ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা নিয়েই শুরু হয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। এর ধরণ বদল করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। যদিও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রত্যাবাসন চুক্তিকে মিয়ানমারের ধোঁকাবাজি আখ্যা দিয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here