সহযাত্রীদের মরদেহ দাফন হয়ে গেছে, অশ্রুশিক্ত গোটা জাতি। অথচ নিহত স্বামীর জন্য বিদায় অশ্রু ফেলা হলো না পাইলট আবিদের স্ত্রী আফসানার। লাইফ সাপোর্টে থাকা এ নারী এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। শেষ খবর পর্যন্ত কোমায় আছেন তিনি। চিকিৎসার জন্য তার মস্তিষ্কের ওপরের খুলির একটা অংশ খুলে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নেপালের ওই বিমান দুর্ঘটনায় আহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে তিনজনের অবস্থাও সংকটাপন্ন। তারা হলেন শাহীন ব্যাপারী, কবির হোসেন ও শাহরিন আহমেদ।

রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আফসানা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, তার অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এখানো অপরিবর্তিতই। তিনি লাইফ সাপোর্টেই আছেন।

হসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম বলেন, আফসানার ব্লাড প্রেশার এখন ১২০/৮০। তার লিভার, কিডনি, হার্ট সচল আছে। ইউরিন ফাংশনও ঠিক আছে। মেশিনের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। মস্তিষ্কের কিছুটা অংশ কাজ করছে না। এ ছাড়া সবকিছুই সচল। তাই বুধবার সকালে তার চিকিৎসায় সাত সদস্যের আরেকটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে।

বিমান দুর্ঘটনায় পাইলট স্বামী আবিদ সুলতানের মৃত্যুর শোক সামলাতে না পেরে গত রবিবার স্ট্রোক করেন আফসানা। এর পর তিনি কোমায় চলে যান। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করা হয়। এ প্রসঙ্গে ড. বদরুল বলেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক, এটা আমরা বলতে পারি। কিন্তু তিনি এখনো জীবিত। আমরা তাকে ডেড (মৃত) বলতে পারি না।

চিকিৎসার জন্য আফসানাকে দেশের বাইরে নেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে ড. বদরুল বলেন রোগীর এখন যে পরিমাণ ভেন্টিলেশন দরকার, সেটা দেওয়া সম্ভব হবে না। তার ব্রেইনের ওপরের খুলির একটা অংশ খুলে রাখা হয়েছে। ব্রেইনের প্রেসার কমলে ওটা আবার লাগানো হবে।

গত সোমবার আবিদের মরদেহ বুঝে পেয়েছে তার পরিবার। সংকটাপন্ন মাকে হাসপাতালে রেখে বাবার মরদেহ আনতে গিয়েছিল একমাত্র ছেলে তানজিদ সুলতান। ওইদিন রাতেই বনানী সামরিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত সাতজনের মধ্যে শাহীন ব্যাপারী, শাহরিন আহমেদ ও কবির হোসেনের অবস্থা গুরুতর। তাই মঙ্গলবার তাদের আইসিউতে নেওয়া হয়েছে। এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

তিনি বলেন, কবির হোসেন ও শাহরিনের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই তাদের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। অবস্থা একটু ক্রিটিক্যাল। এর মধ্যে কবির হোসেনের পা ভাঙা। আর শাহীন ব্যাপারী চিকিৎসা নিচ্ছেন ডা. লুৎফুল কাদের লেলিনের তত্ত্বাবধানে। আমরা তাকেও আইসিইউতে রেখেছি।

বুধবার সকালে শাহীন ব্যাপারী ও শেহরিনের সার্জারি করা হবে বলে জানান সামান্ত লাল। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আহত মেহেদী হোসেন মাসুম, আলিমুন নাহার অ্যানি, সৈয়দা কামরুন নাহার স্বর্ণা ও সৈয়দ রাশেদ রুবাইয়াতের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান তিনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here