হাজার সান্ত্বনাও শান্ত হবার নয় সন্তানহারা মায়ের মন। দাফন শেষে শোকার্ত স্বজনরা যখন ক্লান্ত, তখন মৃত মেয়ের কবরের পাশে ঠাঁয় বসেছিলেন শোকে পাগলপ্রায় দুঃখিনি মা। মেয়ের কবর ছেড়ে বাড়ি ফিরতে চাচ্ছিলেন না কো-পাইলট পৃথুলা রশীদের মা রাফেজা বেগম। জাগতিক সব ভাবনা ছেড়েছুড়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে মেয়ের কবরের পাশেই বসেছিলেন তিনি। নিরবে হাতড়ে ফিরেছেন সন্তানের সব স্মৃতি। সন্তান আর ‘মা’-এর সম্পর্কটা বুঝি এমনই অবিচ্ছেদ্য ও অটুট।

জানা গেছে, নাওয়া-খাওয়া আর ঘুম হারাম করে সন্তানের কবরের পাশে সারাদিন বসেছিলেন রাফজা বেগম। পরিবারের সদস্যরা তাকে বাসায় নেওয়ার জন্য নানা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

হতভাগা এই মা বলেন, ইচ্ছা ছিল মেয়েকে ডাক্তার বানাব। এ কারণে সায়েন্সে ভর্তি করিয়েছিলাম। কিন্তু ওর পাইলট হওয়ার অনেক ইচ্ছা ছিল। প্রথমে আমি বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু পৃথুলার পাইলট হওয়ার ইচ্ছাটা অনেক বেশি হওয়ায় আমি আর বাধা দেইনি।

কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কিছুটা সময় নিরব থেকে আবার তিনি বলেন, সামনের ১৮ জুলাই পৃথুলার জন্মদিন। দিনটি পালনে অনেক পরিকল্পনা নিয়েছিল সে। আত্মীয়-স্বজনদের আগেই দাওয়াত দিয়ে রেখেছিল। জন্মদিনের পরেরদিন আমাকে আর ওর বাবাকে নিয়ে দেশের বাইরে বেড়াতে যাবে বলেছিল। কিন্তু এ দুর্ঘটনায় তার সব ইচ্ছাই অপূর্ণ রয়ে গেল।

এদিকে পৃথুলার আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে আগামী শুক্রবার (২৩ মার্চ) বিভিন্ন মসজিদে মেনাজাতের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here