মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন কিউয়ের পদত্যাগ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় সামরিক শাসনের পর ২০১৬ সালের মার্চে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। অথচ দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় তিনি পদত্যাগ করলেন। বুধবার তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

২০১৫ সালের নভেম্বরের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে। অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ক্ষমতায় আসে। তবে সেনাবাহিনীর তৈরি সংবিধানে বিধিনিষেধ থাকায় নিজে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি সু চি।

তাই সু চির ডান হাত হিসেবে পরিচিত থিন কিউ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পান। যিনি দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় সামরিক শাসনের পর মিয়ানমারের বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরের মাথায় পদত্যাগ করলেন থিন কিউ। পদত্যাগের কারণ জানা যায়নি।

তবে মাস দুয়েক আগেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর রচিত সংবিধান সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট থিন কিউ। এমনকি কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থায় স্বীকৃতি এবং সব সংখ্যালঘুদের জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানান তিনি। যদিও মিয়ানমারের শাসন ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা কমিয়ে আনার বিষয়টি বেশ স্পর্শকাতর ইস্যু। বেসামরিক সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই এ বির্তক শুরু হয়।

২০০৮ সালের সংবিধানে সংসদের এক-চতুর্থাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত। এছাড়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন ও নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে সেনাবাহিনীর।

গেল ৪ মার্চ ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের ৭০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা যখন কেন্দ্রীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র গড়ে তুলছি রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে। আমাদের সবাইকে উপযুক্ত সংবিধান গঠনের জন্য কাজ করতে হবে।

তবে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের পদ আনুষ্ঠানিক। কিন্তু থিন কিউ দেশটির নেত্রী সু চির ঘনিষ্ট। তাই তার এই বক্তব্যের পর ভালোই সাড়া পড়ে, শুরু হয় নানা গুঞ্জন। তাই সেনাবাহিনীর চাপেই হয়তো থিন কিউ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই। যদিও এর সত্যতা পাওয়া যায়নি এখনোও। অবশ্য প্রেসিডেন্টের ফেসবুক পাতায় বলা হয়েছে তিনি বিশ্রাম নিতে চান। ৭১ বছর বয়সী এই নেতা বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।

২০১১ সালে মিয়ানমারের ৪৯ বছরের সেনা শাসনের অবসান হয়। সু চির পার্টি ২০১৫ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে বেসামরিক সরকার গঠন করে। তবে দেশটির গণতন্ত্রের অভিমুখে এগিয়ে যাওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা জোরালো হওয়ার পর হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ছয় লাখেরও বেশি মানুষ।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এটিকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। রাখাইন সহিংসতাকে জাতিগত নিধন বলে আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। আবার রাখাইন ছাড়াও দেশটির কাচিন ও শান প্রদেশে গত কয়েক সপ্তাহে নতুন সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এসব নিয়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে ভালোই চাপে ছিলেন প্রেসিডেন্ট থিন কিউ।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here