রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যদি শুধু প্রভাবশালী রাজনীতিক ভাবেন, তাহলে ভুল করবেন। রুশ গুপ্তচর সংস্থা কেজিবির সাবেক সদস্য পুতিন শুধু রাজনীতির মাঠেই দক্ষ নন, একই সঙ্গে তিনি উড়োজাহাজ চালনা থেকে শুরু করে, বিভিন্ন সামরিক কায়দা কৌশল প্রয়োগেও সিদ্ধহস্ত। শুধু তাই নয় খালি হাতে আত্মরক্ষা করতে যুবক বয়সেই পুতিন রপ্ত করেছেন মারাত্মক এক শিল্প। আর তা হলো রুশ মার্শাল আর্ট স্যাম্বো।

জুডোতে শত্রুকে মেরে ফেলার আইন নেই৷ শুধু ঘায়েল করার কথা বলা হয়৷ কিন্তু স্যাম্বো তার চেয়েও মারাত্মক খেলা৷ এই পদ্ধতিতে শত্রুকে মেরে ফেলার কথা বলা হয়েছে৷ আর তাতেই দক্ষ রুশ প্রেসিডেন্ট৷ এমনকি মাঝেমাঝেই শারীরিক সক্ষমতায় নিজের দেহরক্ষী প্রশিক্ষিত কমান্ডোদেরও চমকে দেন তিনি৷

৬৫ বছর বয়সী পুতিনের সক্ষমতা দেখে যে কেউ চমকে যাবেন৷ নিয়ম করে এখনও শরীরচর্চা করেন তিনি৷ রাষ্ট্রীয় কাজের পাশাপাশি করেন জুডো ও স্যাম্বো অনুশীলনও৷ যদিও একাধিক ছবিতে পুতিনকে জুডো অনুশীলনে দেখা গেলেও স্যাম্বো অনুশীলনরত তার ছবি নেই বল্লেই চলে।

জানা যায়, সোভিয়েত জামানায় পুতিন যখন কেজিবি এজেন্ট ছিলেন, তখনই তিনি স্যাম্বো রপ্ত করেন। প্রাথমিকভাবে স্কুলে পড়ার সময় থেকেই স্যাম্বো টেকনিক বেছে নেন তিনি৷ পরে সেই খেলার সঙ্গে শত্রুকে মেরে ফেলার কৌশলও আয়ত্তে আনেন৷ স্যাম্বো মূলত দুই রকম৷ একটি ক্রীড়ামূলক অন্যটি যুদ্ধপদ্ধতি৷ আর দুই বিভাগেই পারদর্শী পুতিন৷

কী এই স্যাম্বো ?

স্যাম্বো নামের ইংরাজি হলো ‘সেলফ ডিফেন্স উইথআউট ওয়েপনস’৷ ১৯২০ সালে সোভিয়েত লাল ফৌজে স্যাম্বো শিক্ষা চালুর বিষয়ে নির্দেশ দেন লেনিন৷ তখন থেকেই রাশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে স্যাম্বো৷ মূলত জাপানি যুযুৎসু ও জুডোর সঙ্গে আরও কিছু কলাকৌশল মিশিয়ে প্রাণঘাতী আত্মরক্ষামূলক কৌশল তৈরি করেছিলেন দুই রাশিয়ান ভিক্টর স্পিরিদনভ ও ভাসিলি ওসচেপকভ৷ তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন জাপানের কিংবদন্তি জুডো প্রশিক্ষক ড. জিগোরো কানোর কাছে৷ পরে স্যাম্বো ট্রেনিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রতিপক্ষ নাৎসি বাহিনীর উপর প্রয়োগ করে লালফৌজ৷ আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জন্ম নেওয়া পুতিন স্কুল জীবনেই স্যাম্বো অনুরাগী হয়ে যান৷

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here