মিয়ানমারে পরিবারের লোকজনের হত্যাকাণ্ডের পর ১৪ বছর বয়সী আনোয়ারা পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। বিপদগ্রস্ত এই কিশোরীর তখন খুবই সাহায্যের দরকার ছিল। আর এই অসহায়ত্বের সুযোগটিই নিয়েছে পাচারকারীরা।

আনোয়ারা বলে, ‘একদিন একটি গাড়িতে করে কয়েকজন মহিলা এলো। তারা জানতে চাইলো আমি তাদের সঙ্গে যাবো কি না। তারা আমাকে প্রতিশ্রুতি নতুন জীবনের। যেতে রাজি হওয়ার পর আমাকে গাড়িতে করে কক্সবাজার নিয়ে যাওয়া হয়।’

সে বলে, ‘খুব বেশিক্ষণ হয়নি তার আগেই ওরা আমার কাছে দুটো ছেলে নিয়ে এলো। তারা আমাকে ছুরি দেখালো। পেটে ঘুষি মারলো। আমি রাজি হচ্ছিলাম না দেখে ওরা আমাকে মারতে থাকলো। একপর্যায়ে ওরা আমাকে ধর্ষণ করলো।’

কক্সবাজারে ক্যাম্পগুলোতে নারীদের যৌন নির্যাতন ও যৌন পেশায় জড়িয়ে পরার এমন অনেক ঘটনার বর্ণনা পাওয়া গেছে। অল্প বয়সী নারী ও শিশুরা এর মূল টার্গেট। বিপদগ্রস্ত এই নারী ও শিশুদের মূলত কাজের লোভ দেখিয়ে ক্যাম্প থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের অভিভাবকরা বলছেন দেশের বাইরে কাজ, রাজধানী ঢাকায় বাড়িঘরে গৃহকর্মীর কাজ বা হোটেলে কাজের অনেক প্রস্তাব আসছে তাদের কাছে। মারাত্মক ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে বিশৃঙ্খল পরিবেশ পাচারকারীদের সুযোগ যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাসুদা নামের আরেক কিশোরী তার কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলে, ‘আমি জানতাম আমার কপালে কী আছে। যে মহিলা আমাকে কাজ দেয়ার কথা বলেছিল, সেও একজন রোহিঙ্গা। অনেকদিন আগে এখানে এসেছে। সবাই জানে যে সে লোকজনকে যৌন কাজে সহায়তা করে। আমার কোনো উপায় ছিল না, কারণ এখনো আমার জন্য কিছুই নেই।’

রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনের ভরসা নেই। ক্যাম্পের জরাজীর্ণ জীবনই তাদের ভবিষ্যৎ। তা থেকে বাঁচতে চেয়েছিল মাসুদা। এখন সে একটি স্থানীয় এনজিওর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। মাসুদা বলে, ‘আমার পরিবার নিখোঁজ হয়ে গেছে। আমার কোন অর্থকড়ি নেই। মিয়ানমারে আমি ধর্ষণের শিকার হয়েছি। আমি একসময় আমার ভাইবোনের সাথে খেলা করতাম। এখন খেলা কাকে বলে সেটাই ভুলে গেছি।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here