বগুড়ার মিতু আকতারকে ক’দিন আগেও কেউ চিনতো না। কিন্তু স্বপ্ন আর সাহসের জোরে সে এখন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের অদম্য কিশোরীদের প্রতিক। গত সোমবার মিতু মাত্র ৪ ঘণ্টা ৩২ মিনিট ৫১ সেকেন্ড সময় নিয়ে বাংলা চ্যানেল খ্যাত টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ জিরো পয়েন্ট দিয়ে সাঁতরে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছেছে। বয়স মাত্র ১৭ হলেও মিতুই প্রথম কোনও নারী যিনি বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিলেন। আর এই সাফল্যের পর মিতু জানিয়েছে তার স্বপ্নের কথা। তার পরবর্তী লক্ষ্য দেশ নয় বরং বিশ্ব জয়ের।

মিতু ছাড়াও রংপুরের মেয়ে পূর্ণিমা খাতুনসহ মোট ১৮জন সাঁতারু ওইদিন বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেয়। যদিও পূর্ণিমা চ্যানেলের মাঝপথে গিয়ে থেমে যান।

মিতু বলেন, ‘আমার টার্গেট ছিল যে কোন মূল্যে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া। আল্লাহ সেই আশা পূরণ করেছেন। আগামীতে আরও বড় বড় অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নিতে চাই। আন্ডারওয়াটার ডাইভার হিসাবে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখছি আমি। নারী হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে বিশ্ব বিখ্যাত আন্ডারওয়াটার ডাইভার হতে চাই। এজন্য স্কুবা ডাইভার এবং নানা অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গে কাজ করতে চাই। সরকার ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করছি।’

মিতু বলেন,‘বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে আমি স্বপ্ন দেখছি। নানা রকম অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নিয়ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের সুনাম আনতে চাই।’

এর আগে ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি শাহপরীর দ্বীপ-সেন্টমার্টিন রুটে বাংলা চ্যানেলের যাত্রা শুরু হয়। মূলত এটির স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন প্রয়াত কাজী হামিদুল হক। যিনি নিজেও একজন বিখ্যাত আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার ও স্কুবা ডাইভার এবং নানাবিধ অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার তত্ত্বাবধানেই প্রথমবারের মতো ফজলুল কবির সিনা, লিপটন সরকার এবং সালমান সাঈদ ‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি দেন। এরপর থেকে প্রতিবছরই এটির আয়োজন করা হচ্ছে। গত সোমবার কাজী হামিদুল হকের স্মরণেই বাংলা চ্যানেল সুইমিং-২০১৮ এর আয়োজন করা হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here