নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ২৬ বাংলাদেশির বাকি তিনজনের মরদেহও গতকাল দেশে আনা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার ২৩ মরদেহ দেশে আনা হয়। পরিচয় শনাক্ত করতে দেরি হওয়ায় বাকি তিনজনকে আনা হলো তিনদিন পর। এরা হলেন- মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পিয়াস রায় ও মোল্লা আলিফুজ্জামান।

গতকাল বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফাইটে করে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহগুলো পৌঁছে। নিহতদের স্বজনদেরকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানবন্দরেই মরদেহগুলো তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে স্বজনদের কফিন বুঝিয়ে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল। বিকাল সাড়ে ৫টায় শেষ হয় হস্তান্তর প্রক্রিয়া। এর কিছুণ পরই একে একে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেরিয়ে আসেন নজরুল ইসলাম, আলিফুজ্জামান ও পিয়াস রায়ের স্বজনরা।
তখন বিমানমন্ত্রীকে বার বার চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত শোকাহত। গোটা জাতি আজকে শোকাহত। এত বড় দুর্ঘটনা অতীতে হয়েছে কি না, জানি না। ২০ তারিখে ২৩ লাশ গ্রহণ করেছিলাম। আজকে তিনটি করলাম। এদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

দুর্ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন- ঘটনার পরের দিনই নেপাল গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর প্রধান, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। এত বড় দুর্ঘটনার জন্য তাদের এয়ারপোর্ট কর্তৃপ দায়ী, সেটা তাদের বলে এসেছি। তারা জানিয়েছেন, ব্ল্যাকবক্সের তথ্য বিশ্লেষণ শেষে ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

গত ১২ মার্চ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস২১১ ফাইটটি ৭১ আরোহী নিয়ে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা ৩৬ বাংলাদেশির ২৬ জনই মারা যান। গত সোমবার ২৩ জনের মরেদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশাফি বিনতে শামস জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে নজরুল ইসলাম ও মোল্লা আলিফুজ্জামানের জানাজা হয়। এতে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এবং নেপালে থাকা বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি পিয়াস রায়ের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here