কথায় বলে কারও পৌষ মাস আর কারো সর্বনাশ। সম্প্রতি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ছড়ানো, ব্যবহারকারীদের তথ্য ফাঁসসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিশ্ব জুড়ে হঠাৎ করে ধস নেমেছে ফেসবুকের ভাবমুর্তি। আর এতে অভিনব উপায়ে লাভবান হচ্ছে ফেসবুকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী টুইটার। অনেকেই এখন টুইটারে #ডিলিটফেসবুক বা #বয়কটফেসবুক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। এছাড়া ইতিমধ্যেই অনেকেই এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলে মোবাইল থেকে ফেসবুক অ্যাপটি ডিলিট করে দিয়েছেন। আর এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা নতুন করে ঝুঁকছেন টুইটারের প্রতি।

সম্প্রতি ফেসবুকের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্যে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। আর এই কাজটি করা হয়েছে লন্ডনভিত্তিক ব্রিটিশ একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার সাহায্যে। অভিযোগটি খবর হিসেবে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই টুইটারসহ অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকবিরোধী হ্যাশট্যাগ চালু হয়।

মজার বিষয় হলো এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ব্রায়ান একটনও। ফেসবুক ১৯ বিলিয়ন ডলারে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেওয়ার তিন বছর পর তিনি ওই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যান।

টুইটার ব্যবহারকারীদের একজন এই প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিবিসির গত বছরের একটি খবরও টুইট করেছেন। ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এরকম গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার থেকে তিনি চারটি উদ্ধৃতি তুলে ধরেছেন, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার ব্যাপারে ফেসবুকের ভূমিকা সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্যে। যেমন তিনি বলেছিলেন, ‘ফেসবুক আমাদের একটি পার্টনার, এবং ফেসবুক ছাড়া আমরা জিততে পারতাম না।’

কেউ কেউ বলছেন, এই ঘটনার পর থেকে অনেকেই হয়তো ফেসবুক ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা চিন্তা করতে পারেন। যারা হ্যাশট্যাগ দিয়ে “ডিলিট ফেসবুক” প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা প্রচুর লাইকও পাচ্ছেন।

তবে এ বিষয়ে একজন কৌতুক করে মন্তব্য করেছেন, ‘ফেসবুকের এই দুঃসময়ে পোয়াবারো হয়েছে টুইটারের। হঠাই তাদের গ্রাহক সংখ্যা যেন বেড়ে গেছে। আরেকজন বলেছেন, যেহেতু ফেসবুক ইন্সটাগ্রামেরও মালিক, একটি ডিলিট করলে আপনাকে তো অন্যটিও ডিলিট করতে হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here