স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করায় তা উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আজ বৃহস্পতিবার আয়োজন করা হয়েছে শোভাযাত্রার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও দেওয়া হচ্ছে সংবর্ধনা। অথচ উন্নয়নশীল দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। তাহলে এখনই কেন এই উদযাপন?

এ সম্পর্কে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আযম জানিয়েছেন, সরকার মনে করে, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবজনক অর্জন। কারণ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার সবগুলো শর্ত প্রথমবারের মত পূরণ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক- তিন ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, বিশ্বের কোন দেশই এ তিনটি সূচকে একসঙ্গে অগ্রগতি করতে পারেনি। বাংলাদেশ এখানে ব্যতিক্রম। তবে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ জাতিসংঘ ২০২১ সালে একটি পর্যালোচনা করবে। এরপর ২০২৪ সালে আরেকটি মূল্যায়ন হবে বাংলাদেশের। সব কিছু ঠিক থাকলে ওই বছরই আসবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি। আর এ কারণেই সপ্তাহব্যাপী উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যার সমন্বয় করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।

২০ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত নানারকম কর্মসূচি রয়েছে এই পরিকল্পনায়। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা, বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আতশবাজি উৎসব। ঢাকার নয়টি স্থান থেকে ৫৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে শোভাযাত্রা করে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। শোভাযাত্রার কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এবং চারপাশের সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলে সীমিত থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। পরদিন শুক্রবার হাতিরঝিলে সরকারি উদ্যোগে আলোকসজ্জার উৎসব করা হবে। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়েও সপ্তাহব্যাপী আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের রায়ে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পাওয়ার বিষয়টি উদযাপন করেছিল সরকার। একইভাবে ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে (ইটলস) করা মামলায় বাংলাদেশ জেতার পরও একই রকমভাবে উদযাপন হয়। কিন্তু ব্যাপ্তি এবং ব্যাপকতার দিক থেকে আজকের উদযাপনটি বেশ বড়। এর পেছনে অবশ্য কেউ কেউ রাজনৈতিক হিসেব-নিকেষও কষছেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here