মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে বাবা-মাকে হারিয়ে স্তব্ধ তানজিদ সুলতান মাহি। বয়স সবে ১৪, হাসি-খেলা আর বাবা-মায়ের কাছে নানা বায়না ধরার সময়। অথচ এ বয়সেই একের পর এক আঘাত সইতে হচ্ছে তাকে। তার চোখে আর জল নেই, মাকে হারিয়েও চুপ মেরে গেছে।

নেপালে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম মারা গেছেন। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ওই হাসপাতালের আইসিইউর চিকিৎসা কর্মকর্তা কাজী একরাম হোসেন জানান, আবিদের স্ত্রীর অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছিল। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

আফসানার ফুফাতো ভাই খন্দকার রেজাউল করিম বলেন, ‘মাহি চুপ করে আছে। কাঁদলে মন হালকা হতো।’ তিনি জানান, সম্প্রতি নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটি বিধ্বস্তের খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পাইলট আবিদের স্ত্রী আফসানা। প্রথমে তাকে বলা হয় আবিদ আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। পরে স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে আফসানা ভেঙে পড়েন। কিন্তু কাঁদেননি। পরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার হয়েছিল। মায়ের স্ট্রোকের সময় মাহি পাশে ছিল। এখন ছেলেকে নিয়েই তাদের যত চিন্তা।

আফসানা খানমের মৃতদেহ তাদের উত্তরার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাদ আসর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদে আফসানা খানমের জানাজা হয়। পরে তাকে স্বামীর পাশেই বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হলে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা আবিদ সুলতান। ওই দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ জনের মরদেহ গত রোববার দেশে ফিরিয়ে এনে আর্মি স্টেডিয়ামে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মাকে হাসপাতালে রেখে সেদিন বাবার কফিন আনতে যায় উত্তরার মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্র মাহি।

বাবার স্বপ্ন ছিল একমাত্র সন্তান তানজিদ সুলতান মাহিকে পাইলট বানিয়ে তবেই অবসরে যাবেন। কিন্তু সেটা আর হলো না। মাহির চাচা খুরশিদ মাহমুদ বলেন, ছেলেটা অল্প বয়সেই বাবা-মাকে হারিয়েছে। তার মনের অবস্থা বুঝতেই পারছেন। ছোট মানুষ, কিন্তু কান্নাকাটি করছে না। শোকে একেবারে নীরব হয়ে গেছে। কী বলে ওকে সান্ত্বনা দেব, ভাষা নেই।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here