ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত বিমানের প্রধান পাইলট আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম না ফেরার দেশেই চলে গেলেন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান বলে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের তথ্য ডেস্কের কর্মকর্তা মো: সাইফুল্লাহ নিশ্চিত করেছেন। আবিদ সুলতান নেপালে অবতরণের সময় বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পরদিন কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে মারা যান।

পাইলট আবিদের ভাই অধ্যাপক খুরশিদ মাহমুদ জানান, শুক্রবার বাদ আসর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর জামে মসিজদে আফসানা খানমের জানাজা হবে। এরপর তাকে বনানী সামরিক কবরস্থানে আবিদের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমানটি অবতরণের সময় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৯ জন। এদের মধ্যে পাইলট আবিদ, ফার্স্ট অফিসার পৃথুলা রশিদ, কেবিন ক্রু খাজা হোসেন ও শারমিন আক্তার নাবিলাসহ বাংলাদেশি ২৬ জন। তবে দুর্ঘটনার পর পাইলট আবিদ আহত অবস্থায় কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে মারা যান পাঁচ হাজার ঘণ্টা ফ্লাইট চালানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ পাইলট।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার স্ত্রী আফসানা। প্রথমে তাকে বলা হয় আবিদ আহত হয়ে চিকিৎসাধীন। পরে স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে তিনি ভেঙে পড়েন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তার মাথায় অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

গত রোববার সকালে আফসানা মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রণা বোধ করছিলেন। প্রথমে তাকে উত্তরার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে শেরেবাংলা নগরের নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই হাসপাতালের আইসিইউতেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন তিনি।

আফসানার মস্তিষ্কে দুবার রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) হয়ে ছিল। প্রথমবার ছিল মৃদু, পরেরটি গুরুতর। তার মাথার খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়েছিল। আবিদ-আফসানার একমাত্র ছেলে তানজিদ সুলতান (১৪)। মাত্র ১১ দিনের মাথায় প্রিয় বাবা-মাকে হারিয়েছে সে। তাই তাকে নিয়েই এখন বেশি চিন্তিত স্বজনরা। তানজিদ উত্তরায় তার নানার বাসায় আছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here