মিরপুরের উদ্দেশে ফার্মগেট থেকে যাত্রীবাহী বাসে উঠেন ইডেন মহিলা কলেজের এক ছাত্রী। তবে বসতে গিয়ে তিনি একটু থমকে যান। চালক আর হেলপার ছাড়া গোটা গাড়িতে মাত্র দুইতিন জন যাত্রী। তাই অস্বস্তি বোধ করে বাস থেকে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওই ছাত্রী।

এ সময় বাসের হেলপার বলে উঠে- ‘আপা, ভয় পাইছে।’ পরক্ষেণেই গেট রোধ করে দাঁড়ায় সে। তখন বাসচালক গেট লাগিয়ে দিতে বলে। সেই সঙ্গে চালক, তার হেলপার ও বাসের অন্য যাত্রীরা এ নিয়ে হাসাহাসি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে খামারবাড়ি পৌঁছে গাড়িটি রুট পরিবর্তনের চেষ্টা করে। তাই ভয়ে মেয়েটি হেলপারকে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে নেমে পড়েন। রাস্তায় পড়ে গিয়ে তিনি হাতে ব্যাথাও পান।

গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মতিঝিল থেকে চিড়িয়াখানাগামী নিউ ভিশন পরিবহনের একটি বাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই কলেজছাত্রী তার হেনস্থার বিষয়টি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের বললেও তারা সাড়া দেননি। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে পুরো ঘটনা ফেসবুকে উল্লেখ করেন ওই ছাত্রী।

এর পর ঘটনার অনুসন্ধানে নামে ডিবি (পশ্চিম বিভাগ) পুলিশের একটি দল। অবশেষে বুধবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কলেজছাত্রী হেনস্থার ঘটনায় জড়িত সেই বাসচালক মো. দ্বীন ইসলাম (৩৭) ও তার সহকারী মো. বিল্লাল হাওলাদারকে (২৮) আটক করেন তারা।

পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সুমন কান্তি চৌধুরী এ বিষয়ে বিস্তারত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ওই ছাত্রী পুরো ঘটনাটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তার নিজের ফেসবুক ওয়ালে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তার ফেসবুকের গোপনীয়তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকায় এবং স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় অসংখ্য মেসেজ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তার ইনবক্স চেক থেকে বিরত থাকেন। ফলে আমরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।’

‘এক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। এর পর নিউ ভিশন পরিবহনের বাসের চালক ও হেলপারদের ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্ত দ্বীন ইসলাম ও বিল্লালকে আটক করা হয়।’ বললেন এসি সুমন কান্তি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here