যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একের পর এক জটিলতা ঘিরে ধরছে। বিশেষ করে নারীসঙ্গ। মেলানিয়াকে বিয়ে করার পরও তিনি দুই নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন বলে অভিযোগ। এর মধ্যে একজন পর্নো তারকা, অন্যজন প্লেবয় মডেল। দু’জনকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে অর্থের বিনিময়ে মুখ বন্ধ করা হয়। কিন্তু বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর মেলানিয়া ও ট্রাম্পের মধ্যে টান টান সম্পর্ক বিদ্যমান বলে খবর দিচ্ছে পশ্চিমা মিডিয়া।

ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আইনজীবী মাইকেল কোহেন স্বীকার করেছেন ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পর্নো তারকা স্টর্মি ডানিয়েলকে মুখ বন্ধ রাখতে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন। এ ছাড়া প্লেবয়ের সাবেক মডেল ক্যারন ম্যাকডগালের সঙ্গেও ২০০৬ ও ২০০৭ সালে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন ট্রাম্প। প্রথম বার যৌন সম্পর্কের পর প্রেসিডেন্ট তাকে বিপুল পরিমাণে অর্থ দিতে চেয়েছিলেন।

প্রাক্তন মার্কিন মডেল ক্যারন নিজেই জানান, ২০০৬ সালে ট্রাম্প তখন নিউইয়র্কের ধনকুবের এবং চুটিয়ে টিভি প্রোগ্রাম করছেন। এমন একটা সময়েই তিনি ট্রাম্পের প্রেমে পড়েন। তার দাবি, প্রায় এক বছর তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। গত মাসেই এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেন তিনি। তবে ট্রাম্পের অর্থ দিতে চাওয়ার কথা জানালেন কালই প্রথম। বললেন, ট্রাম্প তাকে বিয়ে করবেন ধরে নিয়েই এগিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু এত দিন কেন মুখ খোলেননি? ক্যারন বললেন- মানুষটা কেমন, সেটা সবার জানা উচিত। আরও অনেকে বলছে বলেই এগিয়ে এলাম। ভালোবাসার কথা বলে কেন যে অর্থ দিতে চেয়েছিলেন, সেটা আজও বুঝতে পারি না। যদিও হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যায়, এ মডেলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন প্রেসি়ডেন্ট ট্রাম্প।

সুন্দরী নারীদের প্রতি ধনকুবের ট্রাম্পের আকর্ষণ সব সময়ই। অসংখ্য অবৈধ সম্পর্ক ছাড়াও তিনি বিয়ে করেছেন তিনবার। তার তিন স্ত্রীই জীবনে কখনো না কখনো মডেল বা অভিনেত্রী ছিলেন। প্রথম স্ত্রী ইভানা জেলনিকোভা। তিনি চেকোশ্লাভিয়ার নাগরিক ছিলেন। জেলনিকোভা ছিলেন চেক অ্যাথলেট। ছিলেন জনপ্রিয় মডেল। ফ্যানশন মডেল হিসেবে নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় তার। তিন স্ত্রীর মধ্যে জেলনিকোভাই ছিলেন ট্রাম্পের সবচেয়ে প্রিয়। এ কথা গণমাধ্যমে স্বীকারও করেছেন তিনি। যদিও ১৯৯০ সালে ট্রাম্প ও জেলনিকোভার সংসার ভেঙে যায়।

তাদের বিচ্ছেদ নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমে রমরমা খবর প্রকাশিত হয়। জেলনিকোভা না কি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেছেন। তা ছাড়া সুনাম ক্ষুণ্নেরও অভিযোগ আনেন তিনি। যদিও জেলনিকোভা এসব অভিযোগ পরে অস্বীকার করে বলেছিলেন, গণমাধ্যমের খবর ভুয়া ও ভিত্তিহীন।

জেলনিকোভার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ১৯৯৩ সালে আবার বিয়ে করেন ট্রাম্প। আগের বারের মতো দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন আরেক জনপ্রিয় মডেল মার্লা ম্যাপলসকে। কিন্তু ছয় বছর যেতে না যেতেই অন্য নারীর প্রেমে মজেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ছয় বছরের মাথায় ম্যাপলসের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় ট্রাম্পের। তবে এ জন্য দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিতে ২০ লাখ ডলার।

ট্রাম্পের অর্জিত সম্পদের বড় একটি অংশ ব্যয় হয়েছে তার প্রথম দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটাতে গিয়ে। নিউ ইয়র্কে অর্থশালী হিসেবে নামডাক ছিল ট্রাম্পের। বিয়েতে যেমন খরচ করেছেন, সম্পর্ক ভাঙতেও তাকে তেমনি অর্থ গুনতে হয়েছে।

প্রথম স্ত্রীকে প্রিয় হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও তৃতীয় ও বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়ার সঙ্গে দারুণ সময় পার করছেন ট্রাম্প। সাড়া জাগানো মডেল মেলানিয়া নাউস। বেশ কিছু দিন প্রেম করার পর ২০১৫ সালে বিয়ে হয় তাদের। ট্রাম্প ও মেলানিয়ার বয়সের ব্যবধান ২০ বছর। তবু তাদের সংসার চলছে বহাল তরিয়তে। কিন্তু এতোদিন পর স্বামীর অবৈধ সম্পর্ক ফাঁস হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মেলানিয়া। ঘর-সংসার ছেড়ে ওঠেছেন হোটেলে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here