জনপ্রিয়তায় সবার থেকেই এগিয়ে হালের সুপারস্টার শাকিব খান। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন, দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে এই তার কাঁধে ভর করেই টিকে আছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। শাকিবের ছবি মুক্তি পেলে নির্ভার থাকেন প্রযোজকও। সে থাকা মানেই লগ্নি করা টাকা উঠে আসা। ফলে ছবি মুক্তির সময় অন্য অনেকের চেয়ে বেশি সিনেমা হল বরাদ্দ থাকে তার জন্যই। এটা রীতিমতো নিয়মে পরিণত হয়েছে।

দেশের সিনেমায় শাকিব খান এক নির্ভরতার নাম। বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতাতেও এখন দারুণ জনপ্রিয় তিনি। ওপারের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাকিব খানকে নিয়ে ছবি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। তার এই সাফল্য নিয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সম্প্রতি একটি অনলাইনকে বলেন, ‘শাকিব খান পুরোপুরি বাণিজ্যিক ছবি করছে। ভালো হচ্ছে। আমি চাই, শাকিব আরও ভালো করুক। কারণ একটা দেশ থেকে আরেকটা দেশে গিয়ে সাফল্য পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। এটা শাকিব তার কাজ দিয়ে অর্জন করেছে। সবাইকে টেক্কা দিয়ে এ জায়গা অর্জন করা অনেক কষ্টের।’

আসলেই অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে আসতে হয়েছে শাকিব খানকে। ১৯৯৯ সালে আফতাব খান টুলু পরিচালিত ‘সবাই তো সুখী হতে চায়’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন শাকিব। যদিও তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের নাম ‘অনন্ত ভালোবাসা’। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালেরই ২৮ মে। সিনেমা হিসেবে ‘অনন্ত ভালোবাসা’ খুব একটা সফল না হলেও নায়ক শাকিব খান ঠিকই সবার নজর কাড়তে সক্ষম হন।

এর পর দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়, যুগও পেরিয়েছে। ধীরে ধীরে শাকিব খান হয়ে ওঠেন কিং। দর্শককে উপহার দিতে থাকেন একের পর এক সুপারহিট ছবি। একটা সময় বিষয়টা ক্লান্তি ধরিয়ে দেয়! কারণ ছবি সুপারহিট হলেও নায়কের চেহারায় ছিল না কোনো পরিবর্তন। প্রতিটি ছবিতে একই লুকের শাকিব। সাধারণ মানুষ ভাবে, এত সুশ্রী মুখ বলিউডেও নেই, কলকাতা তো তালিকায়ই থাকে না। অথচ এই সম্পদ আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। সাধারণ মানুষের মনের কথা পড়লেন শাকিব খান। নিজের মধ্যে একটা বিশাল পরিবর্তন করতে চুক্তিবদ্ধ হলেন যৌথ প্রযোজনার ছবিতে।

ছবির নাম ‘শিকারী’। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ভারতের এসকে মুভিজ প্রযোজিত ছবি এটি। যেমন নাম, তেমন তার কাজ। এই ‘শিকারী’ দিয়ে শাকিব খান নতুন করে শিকার করলেন অনেক নাকউঁচু দর্শকেরও মন! যারা কথায় কথায় বলেন, বাংলা সিনেমা এখন আর দেখা যায় না, তারাও কড়া নাড়লেন সিনেমা হলের দরজায়। আর বলতে লাগলেন- এ কোন শাকিব, একে তো দেখিনি আগে। সত্যিই তাই। এই শাকিবকে আগে দেখেননি দর্শক। হয়তো দেখেননি আমাদের পরিচালকরাও! এ কারণেই কি শাকিবের ওপর বইতে থাকে নিষেধাজ্ঞার ঝড়! কথা ওঠে ‘ভারতীয় ছবি ঠেকাও’ আন্দোলনে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে।

বিষয়টি স্পষ্ট করতে শাকিব খান বলেন, ‘আমি বরাবরই দুই বাংলায় ছবি বিনিময়ের ঘোর বিরোধী ছিলাম। এখনো এর বিরোধিতাই করব। আমি সব সময় চেয়েছি যৌথ প্রযোজনা হোক। এর সুবিধা হলো দুই বাংলা থেকে প্রযোজকরা লগ্নি করায় বড় বাজেটের ছবি তৈরি সম্ভব হয় অনায়াসে। খরচটা তেমনভাবে কারো গায়েই লাগে না।’

শাকিব খান বর্তমানে শুটিং করছেন ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘ক্যাপ্টেন খান’ ছবিতে। এ ছবির সেটে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দেখুন ছবি বিনিময় বা যৌথ প্রযোজনা নিয়ে অনেক কথাই তো আমরা বলে থাকি। কিন্তু যখন ‘পাখি’ বা ‘কিরণ মালা’ নামক পোশাকের জন্য আমার দেশের তরুণীরা আত্মহত্যা করেন, তখন তো কোনো কথা শুনি না। অবশ্য কথা বলেও লাভ নেই। কারণ তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আপনি কোনো কিছু দেখা বা করা থেকে কাউকে আটকে রাখতে পারবেন না। আমাদের উচিত নিজেদের ভালো কিছু তৈরি করা। এতে সফল হতে পারলে অন্যকে আটকানোর জন্য আন্দোলন করতে হবে না।’

কথার পিঠে কথা আসে। ভালো কিছু নির্মাণ করতে হলে আগে ভালো গল্প দরকার। সেটা কি আমাদের আছে? আমরা তো সেই নকল গল্পের ছবিই নির্মাণ করছি। যা দর্শক আগে দেখেছে সেটাই আবার দেখাচ্ছি। এবার শাকিব উত্তর দিলেন একটু সময় নিয়ে। বললেন, ‘আচ্ছা আমরা তো নিয়মিত রিয়েলিটি শো করি, দেখি। হাততালি দেই। টাকা খরচ করে ভোট দেই। আপনার কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, রিয়েলিটি শোগুলোতে কি মৌলিক কিছু থাকে?’

পরক্ষণে তিনিই উত্তর দিয়ে বললেন, এক কথায় উত্তর- না। তবুও আমরা দেখি। কারণ, স্টেজে দাঁড়ানো মানুষটি পুরনো সেই গানগুলো কীভাবে উপস্থাপন করেন কিংবা আগে যে গেয়েছে তার মতো শুদ্ধ গাইতে পারল কিনা, সেটা দেখার জন্য। বিচারও হয় সেভাবে। আপনি নিশ্চয়ই সালমান খানের ‘ওয়ান্টেড’ ছবিটি দেখেছেন? অথচ এই একটি ছবি তামিল ভাষায়ই নির্মাণ হয়েছে কয়েকবার। তবুও হিন্দি ‘ওয়ান্টেড’ সুপারহিট। এর কারণ কী? কারণ বলার ভঙ্গিটা আলাদা ছিল। নির্মাণটা আলাদা ছিল। আমার কথা হচ্ছে পৃথিবীর সব গল্পই এক। প্রেম, বিচ্ছেদ আবার মিলন। এখন এই একই গল্প একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা, ভিন্নভাবে বলতে পারাটাই আসল বিষয়।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here