চিকিৎসা বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগেও মৃত্যুকে এখনো জয় করতে পারেনি মানুষ। কখন কিভাবে মৃত্যু হঠাৎ জীবনকে গ্রাস করে নেবে, তা কেউ বলতে পারে না। কিন্তু নরওয়ের লংইয়ারবায়েন গ্রাম একমাত্র স্থান যেখানকার মানুষ আজও মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেনি। গ্রামটিতে আইন করে মৃত্যু নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নরওয়ের সাভালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে চির তুষার ঢাকা এই গ্রামটির অবস্থান। উত্তর মেরুর কাছাকাছি হওয়ায় সারা বছরই এখানে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা থাকে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক কারণেই বছরে অন্তত এক মাস এখানকার মানুষ সুর্যের দেখা পায় না। ফলে এই গ্রামে বসবাস করা সত্যিই চ্যালেঞ্জের। তারপরও সব চ্যালেঞ্জ জয় করে এ গ্রামে বাস করে অন্তত দুই হাজার মানুষ।

কিন্তু তাই বলে মৃত্যুর সঙ্গে গ্রামবাসীর শত্রুতা কোথায় তা হয়তো অনেকেই ধরতে পারছেন না। মূল বিষয়টি হলো, তুষারপাতের আধিক্য এবং বরফের কারণে এখানে কবর দেওয়াটা মহাসমস্যা। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে মৃতদেহে পচন না ধরায় এ নিয়ে গ্রামবাসীকে পড়তে হয় মহা সমস্যায়। তাই ১৯৫০ সালে এ গ্রামে আইন করে মৃত্যু নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যদি কেউ মারা যায় শাস্তি হিসেবে তাকে গ্রামের আশপাশে কবর দেওয়া হয় না। তাদের কবর হয় দূরে অন্য কোথাও।

স্থানীয়রা জানান, কেউ চাইলে এ গ্রামে সারা জীবন থাকতে পারেন। কিন্তু মরণাপন্ন কেউ এখানে থাকতে পারবেন না। অথবা কেউ মারা গেলে তার কবরও এখানে হবে না। একমাত্র উপায় হলো শবদেহ পুড়িয়ে ফেলা। কিন্তু পরিবেশগত এবং ধর্মীয় কারণে অনেকেই তা করতে চান না।

গ্রামের বাসিন্দা নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কর্মকর্তা জেন ত্রিক্রশ্চিয়ান মেয়ার বলেন- যখনই মনে হবে কারো দিন শেষ হয়ে এসেছে, তখনই ওই ব্যক্তিকে নরওয়ের মূল ভূখণ্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এখানে মৃত্যুর মতো জন্মও কঠিন। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে এখানে খুব কম শিশু জন্মায়। তারপরও গ্রামে একটি ছোট হাসপাতাল আছে। তবে সন্তানসম্ভাবাদের প্রসবের জন্য মূল ভূখণ্ডে যেতে উৎসাহিত করা হয়। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here