আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শুক্রবার সুপার সিক্স পর্বের শেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে আফগানিস্তান। এই জয়ের ফলে ২০১৯ সালের আইসিসি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলো তারা। অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড আজ জিততে পারলে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতো। কিন্তু তারা সেটি পারল না। আফগানিস্তানের জয়ের কারণে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ল জিম্বাবুয়েও।

আফগানিস্তানের এটি হবে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৫ সালের আইসিসি বিশ্বকাপে প্রথবারের মতো অংশ নিয়েছিল আফগানিস্তান। বাছাইপর্ব থেকে এর আগে বিশ্বকাপে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামী ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ফাইনাল ম্যাচ। এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান।

সুবর্ণ সেই সুযোগটা কাজে লাগালো আফগানরা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল তাদের ১ রান। প্রথম বলেই অধিনায়ক আজগর স্টানিকজাই চার মেরে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেন। তাতে সুপার সিক্সে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়ে বিশ্বকাপে উঠে যায় এশিয়ার দেশটি। সমান্তরালে কপাল পোড়ে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে জিম্বাবুয়েরও। শুক্রবারের ম্যাচটি টাই হলে যে নিভে যাওয়া আশার প্রদীপটা আবার জ্বলে উঠতো আফ্রিকার দেশটির। হয়নি তা, আফগানদের জয়ে ১৯৭৯ সালের পর জিম্বাবুয়েকে ছাড়া হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ।

অথচ এই আফগানরাই খুঁড়িয়ে উঠেছিল সুপার সিক্সে। গ্রুপ পর্বে মাত্র এক জয়ে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকার কল্যাণে তারা জায়গা পায় সুপার সিক্সে। চূড়ান্ত রাউন্ডে ছয় দলের মধ্যে সবার নিচে থাকায় বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল তাদের। কিন্তু এই রাউন্ডের সব ম্যাচ জিতে এবং সঙ্গে জিম্বাবুয়ের ‘সমর্থনে’ সেই আফগানরাই পেল বিশ্বকাপের টিকিট।

আফগানিস্তানের চেয়ে বরং আয়ারল্যান্ডের সম্ভাবনার পাল্লাই ছিল ভারি। একে ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার সিক্সে নাম লিখিয়েছিল, এর ওপর আবার এই ম্যাচের আগে নেট রানরেটে এগিয়ে ছিল আফগানদের চেয়ে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরা প্রমাণ করে ক্রিকেট বিশ্বকে আফগানিস্তান আরেকবার দেখালো তাদের শক্তি।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা আয়ারল্যান্ড সুবিধা করতে পারেনি আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের। ৫৩ রানে প্রথম উইকেট হিসেবে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড আউট হলেও পেরিয়ে গিয়েছিল ১৫ ওভার। ধীরগতিতে রান তোলায় ৫০ ওভারে ২০৯ রানের বেশি করতে পারেনি তারা। দলীয় সর্বোচ্চ ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন পল স্টারলিং। কেভিন ও’ব্রাইনের ব্যাট থেকে আসে ৪১ রান, আর ৩৬ রান করেন নাইল ও’ব্রাইন।

আইরিশদের অল্পতে আটকে রাখার পথে চমৎকার বল করেছেন রশিদ খান। এই স্পিনার ১০ ওভারে ৪০ রান খরচায় পান ৩ উইকেট। আর দৌলত জারদানের শিকার ২ উইকেট।

সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে আফগানিস্তানকে দারুণ শুরু এনে দেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ও গুলবাদিন নাইব। উদ্বোধনী জুটিতে তারা যোগ করেন ৮৬ রান। দলীয় সর্বোচ্চ ৫৪ রান করে আউট হন ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা শাহজাদ। আর গুলবাদিন খেলেন ৪৫ রানের কার্যকরী ইনিংস।

তাদের গড়ে দেওয়ার ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ২৯ বলে হার না মানা ৩৯ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক স্টানিকজাই। সলিমউল্লাহ শেনওয়ারি করেছেন ২৭ রান, আর নজিবউল্লাহ জারদান অপরাজিত ছিলেন ১৭ রানে।

সিমি সিং বল হাতে ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রান খরচায় ৩ উইকেট পেলেও ঠেকাতে পারেননি আফগানিস্তানের জয়। যে জয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি, বিপরীতে ‘বাড়ির পাশের’ বিশ্বকাপ আইরিশদের দেখতে হবে মাঠের বাইরে থেকে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here