ব্র্যাড কোহেনের লেখা আত্মজীবনী ‘ফ্রন্ট অফ দ্যা ক্লাস : হাউ টরেট সিন্ড্রোম মেড মি দ্য টিচার আই নেভার হ্যাড’ অবলম্বনে লেখা হয়েছে রানীর ‘হিচকি’র চিত্রনাট্য। যে ছবিতে উঠে এসেছে অসুস্থতা কাটিয়ে এক যুবতীর শিক্ষিকা হয়ে ওঠার কাহিনি। ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষিকার সম্পর্ক। যে বিষয়টি শেষবার উঠে এসেছিল আমির খানে ‘তারে জমিন পর’ ফিল্মে।

প্রেক্ষাপট ও গল্প

‘নয়না মাথুর’ (রাণী মুখার্জী) যে কিনা ছোট থেকেই টরেট সিন্ড্রোমে আক্রান্ত সে কীভাবে তার প্রফেসরের কথাতে সব প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে জন্মগত সমস্যা কাটিয়ে শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখে এবং হাজারো বাধা পার করে শিক্ষিকা হয়ে ওঠে সেটাই এই ফিল্ম তুলে ধরা হয়েছে। জি নিউজ।

নয়না মাথুর (রাণী মুখার্জী) শিক্ষিকা হতে চায়, অথচ টরেট সিন্ড্রোমের সমস্যা থাকার কারণে প্রায় সব স্কুলই নয়নাকে চাকরি দিতে অস্বীকার করে। অদম্য জেদ আর ইচ্ছা নিয়ে টানা ৫ বছরের লড়াইয়ের পর অবশেষে সেন্ট নটকার’স-এর স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানোর সুযোগ পায় নয়না মাথুর (রানী)। যেখানে তাকে সব থেকে কম মেধা সম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রীদেরই পড়ানোর দায়িত্ব দেয়া হয় নয়নাকে। সেইসমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা নানানভাবে নয়নাকে সমস্যায় ফেলার চেষ্টা করত। নয়নার বিরুদ্ধে একপ্রকার বিদ্রোহই ঘোষণা করেছিল। তবে অবশেষে একেরপর এক বাধা পার করে সকলের মন জয় করে নেয়। নয়না ধীরে ধীরে গোটা স্কুলের পরিবেশটাই বদলে দেয়।

অভিনয়

‘হিচকি’র প্রধান ইউএসপি অবশ্যই রাণী মুখার্জী। গোটা সিনেমার দায়িত্বই একাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বলিউডের এক সময়ের নম্বর ওয়ান নায়িকা। তিনি যে একজন অসাধারণ অভিনেত্রী সেটা যে আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না তা ‘হিচকি’ই আবারও প্রমাণ করল। এককথায় রানী দর্শকদের হাসাতেও পারেন, আবার কাঁদাতেও পারেন। পাশাপাশি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর হিসাবে ভীষণই ভালো অভিনয় করেছেন নীরজ কবি, যিনি কিনা বিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক হিসাবে বস্তির ছাত্রছাত্রীদের স্কুলের আবর্জনা মনে করেন। এছাড়াও রানীর বাবার চরিত্রে শচীন পিলগাঁওকরও নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন ‘হিচকি’তে। আর গোটা ফিল্মে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য ছোট ছোট শিল্পীদের অভিনয়।

পরিচালনা ও সঙ্গীত

গোটা ছবিতে বেশকিছু দুর্বলতা থাকলেও, সে ফাঁক ভীষণ সুন্দরভাবে ভরাট করেছেন পরিচালক সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা। এই ছবিতে বিভিন্ন মেধার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে স্কুলের মধ্যেই বৈষম্যমূলক শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ‘হিচকি’। পাশাপাশি জাসলিন রয়্যাল ও হিতেশ সোনিকের করা মিউজিকও বেশ ভালোই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here