মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি প্রাথমিকের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে কোনভাবেই স্কুলে পাঠানো যাচ্ছিল না। তাই চিন্তিত হয়ে পড়েন অভিভাবকরা। কারণ জানতে তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় বসেন বাবা-মা। কিন্তু ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মুখ থেকে যা জানতে পারেন, তা রীতিমত আঁতকে ওঠার মতো। ওরা বলে, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে তাদের প্রতিদিনই যৌন হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

স্কুলের এক ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘মেয়ের বান্ধবীরা আমার স্ত্রীকে প্রথমে ঘটনাটি জানায়। কিন্তু আমরা আর্থিক দিক থেকে ওতটা সচ্ছল নই বলে বিষয়টি চেপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।’ তিনি মেয়েকে ইতোমধ্যেই অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন।

এদিকে খবর পেয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তারা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন, স্কুল ছুটির পর কোচিংয়ের পর প্রধান শিক্ষক কম্পিউটার রুমে নিয়ে তাদের মেয়েদের যৌন হয়রানি করে। পরে মিজানুর রহমান বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনকে জানান।

নির্বাহী কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ পাল বলেন, ঘটনা শোনার পর দুজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে খোঁজ নিয়েছি। ভিকটিম পরিবারের সঙ্গে আমাদের কর্মকর্তারা কথাও বলেছেন। আদালতও আমাদের কাছে একটা প্রতিবেদন চেয়েছেন। তাই আমি নিজে ও শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি শিগগিরই তদন্ত করবো। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথেই কথা বলবো। সেক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান এসব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে জানিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, স্কুলের দপ্তরি নিয়োগ নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এ বিষয়ে আমাকে চাপ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের কথায় রাজি না হওয়ায় একটি পক্ষ এসব করাচ্ছে। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ ও ষড়যন্ত্রের শিকার।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here