নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শাহীন ব্যাপারী ওই দেশের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু কিছুতেই তার মান মানছিল না। দগ্ধ শরীর নিয়েই বার বার দেশে ফিরতে চাইছিলেন। তার অনুরোধেই দেশে ফিরিয়ে এনে শাহীনকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। তখন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেছিলেন, শাহীন দেশে ফিরে আসতে চেয়েছিল বলেই তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।

আহত শাহীনের মামাত ভাই মো. শাহেদ খান জানান, দুর্ঘটনার পর শাহীনের বেঁচে থাকার খবর তারা টেলিভিশন থেকে জানতে পারেন। তাই ভাইয়ের খুঁজে নেপালে ছুটে যান তিনি। এ বিষয়ে বলেন, “দুই দিন পর আমি কাঠমান্ডুতে যাই। ভাইয়াকে কেএলসি হাসপাতালে রাখা হয়। দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা নিয়ে হাসপাতালে শাহীন ভাই আমাকে বলেছেন- ‘আমি দরজার পাশে ছিলাম, ধোঁয়ার মতো দেখলাম, কী হইছে কিচ্ছু বুঝতে পারি নাই, আল্লাহর কুদরতে বেঁচে গেছি রে’।”

গত ১৮ মার্চ দেশে আনার পর শাহীন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ভাবি নাই বাঁচব।’ শেষ পর্যন্ত বাঁচানোই গেল না দুর্ঘটনার পর ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া এ যাত্রীকে। তাকে সারিয়ে তুলতে চিকিৎসকরা ২১ মার্চ প্রথম দফায় ও ২৫ মার্চ দ্বিতীয় দফায় তার অস্ত্রোপচার করেন। দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কিন্তু চিকিৎসকদের শত চেষ্টার পরও বাঁচানো গেল না আহত শাহীন ব্যাপারীকে। সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ইসিজি রিপোর্টে হৃদস্পন্দন না পাওয়ার কিছুক্ষণ পর শাহীন ব্যাপারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ব্রিফিং করেন সামন্ত লাল সেন। তিনি জানান, বিমান দুর্ঘটনায় শাহীন ব্যাপারীর শরীরের ৩২ শতাংশ পুড়ে যায়। এ ছাড়া কোথাও কোথাও ডিপবার্ন ছিল। অগ্নিদগ্ধ শাহীনের শরীরে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে। নেপালে থাকা অবস্থাতেই এ ইনফেকশন ছড়ায়।

গত ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৪৯ জন মারা যান, এর মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি। আহত আরো ১০ বাংলাদেশির মধ্যে ৭ জনকে পর্যায়ক্রমে দেশে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে শাহীন ব্যাপারীও আজ চির বিদায় নিলেন। এ ছাড়া বাকি তিনজন দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here