‘তুমি এভাবে চলে যেতে পার না। আমার মেয়েটার কী হবে?’ চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন রিমা। অশ্রুসিক্ত চোখে মাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন রিমার শিশু সন্তান ছোট্ট সূচনা (১০)। মা-মেয়ের এমন আর্তনাদ দেখে কাঁদছেন বাকি স্বজনরাও। তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের পরিবেশ।

নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত শাহীন ব্যাপারীর (৪২) মৃত্যুর পর এমন হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গতকাল বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃত বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ জনে।

শাহীন ব্যাপারীর গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানায়। বাবার নাম শফিউল্লাহ ব্যাপারী, মা জাহানারা বেগম। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। সদরঘাটে একটি কাপড়ের দোকানে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। পরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বাড়ি করেন। সেখানেই একমাত্র মেয়ে সূচনা ও স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আগুন ধরে যাওয়ায় হতাহত যাত্রীদের অধিকাংশই পুড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপর শাহীনকে উদ্ধার শেষে নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই দেশের চিকিৎসকরা তার শরীরে ক্ষতের পরিমাণ জানিয়েছিলেন ১৮ শতাংশের মতো। কিন্তু গত ১৮ মার্চ তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে ভর্তির পর ৩২ শতাংশের বেশি দগ্ধ হওয়ার কথা জানান চিকিৎসকরা। মাথার কিছু অংশ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার ডান পা ভেঙে গিয়েছিল। এ ছাড়া শরীরের পেছন দিকেও আঘাত লাগে।

ঢামেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহীনের বড় বোন রোকসানা আমাদের সময়কে জানান, নেপালে বেড়াতে গিয়েছিলেন শাহীন। দেশে আনার পর গত বুধবার তার প্রথম দফায় অস্ত্রোপচার হয়। এর পর রবিবার হয় দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার। তখন চিকিৎসকরা তার অবস্থা ভালোই বলেছিলেন। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রেখে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। রোকসানা কথা বলার সময় পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন তাদের মা জাহানারা বেগম।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. হোসাইন ইমাম বলেন, ইনফেকশনের কারণে সকাল থেকে শাহীনের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। বিকাল ৫টার দিকে আমরা ডেথ ডিক্লেয়ার করেছি। ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here