ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকেই রাশিযার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দহরম মহরম নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টি তো দেশটিতে এখনও অমিমাংসিত এক রাজনৈতিক আলোচনার খোরাক। অনেক আমেরিকানই মনে করেন আপাদমস্তক ব্যবসায়ী ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাবে নিজের অজান্তেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের খেলার পুতুল হিসেবে কাজ করছেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই যেন পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বন্ধুত্বের ছেদ পড়েছে। সোমবার অনেকটা আকষ্মিকভাবেই ৬০ রুশ কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ঘটনায় রুশ-মার্কিন সম্পর্ক আবার চরম অবনতির দিকে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত? বলা হচ্ছে, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এক গুপ্তচর ও তার মেয়েকে বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহারে হত্যাচেষ্টার জেরে রাশিয়ার ৬০ কূটনীতিককে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি সিয়াটলে অবস্থিত রুশ কনস্যুলেটও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত ৬০ কূটনীতিকের মধ্যে ৪৮ জন রাশিয়ান দূতাবাস এবং বাকি ১২ জন নিউইয়র্কে জাতিসংঘে কর্মরত আছেন। আগামী সাতদিনের মধ্যে তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ৪ মার্চ রাশিয়া সামরিকবাহিনীর ব্যবহৃত বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করে এক ব্রিটিশ নাগরিক ও তার মেয়েকে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমাদের মিত্রদেশ যুক্তরাজ্যে এ হামলা অংসখ্য নিরাপরাধ মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে এ ঘটনাকে রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হযেছে।

এর আগে জার্মানি ও ফ্রান্স চারজন করে রুশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও এমন পদক্ষেপ নিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

গত ৪ মার্চ যুক্তরাজ্যের সালিসবুরির একটি পার্কের কাছ থেকে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের স্নায়ু অকেজো করে দেয় এমন বিষাক্ত রাসায়নিক নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে জানান চিকিৎসকরা।

এ ঘটনা যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার মধ্যকার সম্পর্ককে সংকটের মধ্যে ফেলেছে। এর পর ২৩ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তখনই এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়াও ২৩ ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় দেশটিতে থাকা ব্রিটিশ কাউন্সিল ও সেন্ট পিটার্সবার্গের ব্রিটিশ কনস্যুলেট। এখন দেখার বিষয় ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের বিষয়ে পুতিন সরকার পাল্টা কী ব্যবস্থা নেয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here