বিশুদ্ধতার জন্য অনেকেই বিভিন্ন ব্রান্ডের পানির বোতল কিনে পান করেন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে বিশুদ্ধতার কথা ভেবে পানির বোতলটি কেনা হচ্ছে, তা আপনাকে সুস্ত্য না বরং দীর্ঘমেয়াদে অসুস্থ্য করে তুলতে যথেষ্ট। কারণ সেই বোতলজাত পানির সঙ্গে অজান্তেই আপনার পেটে ঢুকে যাচ্ছে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি ৯টি দেশের ১৯টি অঞ্চলের ১১ রকমের পানির বোতল সংগ্রহ করেন। পরীক্ষা করে দেখা যায়, সংগৃহীত বোতলের ৯৩ শতাংশ পানিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে। অর্থাৎ, যে পানি বিশুদ্ধ ভেবে আমরা পান করছি, তা মোটেই নিরাপদ নয়।

বিজ্ঞানীরা ইদানীং মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে নানাবিধ পরীক্ষা চালাচ্ছেন। আদৌ মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর কি না, ক্ষতিকর হলেও ঠিক কতটা, এ নিয়ে লাগাতার গবেষণা চলছে। অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর এবং বিজ্ঞানী রোলফ হালডেন বহুদিন ধরেই মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে কাজ করছেন। তার বক্তব্য, মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্তধারায় গিয়ে মিশছে, এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

আমস্টারডামের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানী হিথার লেসলি ইঁদুরের ওপর মাইক্রোপ্লাস্টিকের একটি পরীক্ষা শুরু করেছেন। ২৮ দিন ধরে ইঁদুরদের শরীরে প্রচুর মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢোকানো হয়েছে। এখনো সেই ইঁদুরগুলিকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে লেসলি জানিয়েছেন, ভয়াবহ কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি। অর্থাৎ, ইঁদুরগুলির শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক সেভাবে কোনো প্রভাব ফেলেনি। তবে আরো বেশ কিছুদিন ইঁদুরগুলিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

২০১২ সালে গোটা বিশ্বে ২৮৮ বিলিয়ন লিটার বোতলজাত পানি বিক্রি হয়েছিল। ২০১৭ সালে সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯১ বিলিয়ন লিটার। এখনো পর্যন্ত পানির বোতলের মাইক্রোপ্লাস্টিকে ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যায়নি। কিন্তু যদি ভবিষ্যতে তেমন কিছু মেলে, তাহলে তা কত মানুষকে আক্রান্ত করবে, সেটি ভেবেই চিন্তিত বিজ্ঞানীরা। তাই প্লাস্টিকের বোতলে পানি বিক্রি নিষিদ্ধ করা উচিত কি না, তা নিয়েও ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে কোনো কোনো মহলে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here