নিজের এবং ছেলে তারেক রহমানের মামলার সব কার্যক্রম থেকেই ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে সরিয়ে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফলে তাদের আর কোনো মামলা পরিচালনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে দেখা যাবে না দলের অন্যতম নীতি নির্ধারক ব্যারিস্টার মওদুদকে। তবে দলীয় কার্যক্রমে স্বাভাবিক ভাবেই অংশ নিতে পারবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। গেল রবিবার ছয় আইনজীবী দেখা করতে গেলে বেগম জিয়া এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, কিছু দিন ধরেই খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনা নিয়ে দলের আইনজীবীদের দ্বন্দ্ব ও কোন্দল দেখা দেয়। এর মধ্যেই এলো এ কঠোর নির্দেশনা। এ ছাড়া আসছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতেতে নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েক নেতা দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৪টির মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের প্যানেল ১০টি পদে জয় লাভ করে। তাই গত রোববার বিকেলে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আব্দুর রেজাক খান, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেটে এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে যান। তারা সবাই খালেদা জিয়ার মামলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আইনজীবী। নির্বাচনে জয় লাভ করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে খালেদা জিয়া ধন্যবাদ দেন এবং বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।

পরবর্তীতে আইনজীবীদের সঙ্গে তার মামলা নিয়ে খোঁটিনাটি আলোচনা হয়। তিনি জানতে চেয়েছেন, ‘পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্তদের হাইকোর্ট জামিন দিয়ে দেয়, আমার ক্ষেত্রে হচ্ছে না কেন? আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। আমার বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা করা হয়েছে সবগুলোই নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের ষড়যন্ত্র।’

সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে এসে জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘ম্যাডাম পিছিয়ে যাওয়ার লোক না। তার মনোবল অনেক ভালো আছে।’ আর জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা ম্যাডামকে আশ্বস্ত করেছি, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মামলাগুলো জয়লাভ করব। আজকে যেহেতু আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ তাই আমরা আশা করি, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে আপনাকে আমরা কারাগার থেকে বের করে নিয়ে আসতে পারবো।’

বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের প্রশ্ন টেনে আনতেই জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করা অপরাধ নয়। আমাদের ওপর যে ম্যাডামের আস্থা নেই এ কথা তিনি কখনও বলেন নাই। আজকেও তিনি আমাদেরকে বলেছেন, আপনারা সিনিয়র আইনজীবী আপনাদের ওপর আমার যথেষ্ট আস্থা রয়েছে।’

তবে সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার মনোভাব দেখে মনে হয়েছে, তিনি আইনজীবীদের ওপর কিছুটা অসন্তুষ্ট। কথা বলার সময় কয়েকবার রেগেও যান। মামলা পরিচালনায় ভুল হচ্ছে কি না, বার বার জানতে চেয়েছেন। আলোচনার এক পর্যায়ে বেগম জিয়া তার আইনী সব কার্যক্রম থেকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন- আমার এবং তারেকের সব মামলার আইনী কার্যক্রমের বাইরে থাকবেন তিনি। তবে দলীয় কার্যক্রমে স্বাভাবিক নিয়মেই থাকবেন।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই সিনিয়র কয়েক নেতার সঙ্গে তার ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়। দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রথম দুই কর্মসূচির ব্যাপারে তাকে জানানোই হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনার এক পর্যায়ে মামলা পরিচালনার দায়িত্বে কে কে থাকবেন তা জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বলেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন এবং এজে মোহাম্মদ আলী।

তখন খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আমি, জয়নুল আবেদিন এবং মাহবুব উদ্দিন খোকন মামলা পারিচালনা করতে চাই।’ প্রতিউত্তরে বেগম জিয়া ফের নির্দেশ দেন, আপনি এবং এজে মোহাম্মদ আলীই মামলা পরিচালনা করবেন।’ খন্দকার মাহবুব আবারও তার দাবি জানালে বেগম জিয়া একটু বিরক্তি প্রকাশ করেন।

আলোচনার এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার খোকন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘ওরা অপেক্ষাকৃত জুনিয়র। অভিজ্ঞতাও কম। এ প্রক্রিয়ায় তারা না থাকলেই ভালো।’ তখন খোকনের ওপর একটু বিরক্ত হয়েই খালেদা জিয়া বলেন, সিনিয়র ও জুনিয়ররা মিলেই আইনী লড়াই চালাবেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here