যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সান মারকোস। সেখানে ১৬ একর কৃষি খামারটি বিখ্যাত ‘দ্য ফ্রিম্যান ফার্ম’ হিসেবে। যদিও এই খামারে কোনও ফসল ফলানো বা পশুপালন হয় না। তার পরিবর্তে এখানে করা হয় এমন কিছু কাজ, যা সাধারণ ও দুর্বল হৃদয়ের মানুষের কাছে ঘৃণা ও ভীতিকর মনে হতে পারে।

এই খামারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃতদেহ। না কোনও খুনি এই মৃতদেহগুলো এনে এখানে জমা করে রাখেনি, বা কোনও ধরণের গণহত্যার ঘটনাও ঘটেনি এখানে। আসলে এই মৃতদেহগুলো রাখা হয়েছে ভালো কিছু উদ্দেশ্যে।

মূলত ফ্রিম্যান ফার্মহাউজটি টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটির নৃতত্ত্ব বিভাগের ফরেনসিক সেন্টারের অংশ। এখানে মানুষের মৃতদেহে পচন ধরলে তা কিভাবে ধীরে ধীরে নষ্ট হয় এবং কোন কোন ক্রিয়া কিভাবে ঘটে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

জানা যায়, মাসে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন মর্গ থেকে মৃতদেহ এনে গবেষক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। গবেষক ও শিক্ষার্থীরা সেগুলোকে পরিষ্কার করে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখে পচন ধরার জন্য। শিয়াল বা কুকুর জাতীয় কোনও প্রাণী যেন নষ্ট না করে সেজন্য মৃতদেহগুলোকে রাখা হয় খাঁচায় ভরে।

সবচেয়ে বিভৎস হলো, কিছু কিছু মৃতদেহ রাখা হয় প্রখর রৌদ্রতাপে। এ সময় সেগুলো দেখে শকুন জাতীয় উচ্ছিস্টভোগীদের কার্যকলাপও গাছের ওপরে থাকা ক্যামেরার সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এই খামারে যে শুধু মৃতদেহ নিয়ে গবেষণা হয় তা নয়। একইসঙ্গে কোথাও কেউ মারা গেলে লাশের পোস্টমার্টেমও হয় এখানে।

গবেষকরা জানান, মানব শরীরের পচন প্রক্রিয়া তিনটি পর্যায়ে শেষ হয়। প্রথম পর্যায়ে মৃত্যুর কিছুক্ষণের পরেই শরীর ফুলতে শুরু করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে শরীরের বিভিন্ন মাংসপেষী ফেটে যায় এবং একসময় তা গলতে শুরু করে। সবশেষ পর্যায়ে সব মাংস ক্ষয়ে কঙ্কাল বেড়িয়ে আসে।

খামারের কর্মকর্তারা জানান, এখানে ছড়িয়ে থাকা মৃতদেহগুলো দেখে অস্বাস্থ্যকর ও আতঙ্কজনক মনে হতে পারে। কিন্তু মৃতদের বিরক্ত করাআমাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং বিজ্ঞান ও মানবতার সেবার জন্যই তারা এসব সহ্য করে যান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here