আত্মহত্যার আগে মডেল ফাহিম শাহরিয়ার সৌরভের লিখে যাওয়া সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে তোপের মুখে পড়েছেন তারই প্রেমিকা একুশে টেলিভিশনের সকালের অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা নওরিন আহমেদ। কারণ ফাহিম তার স্ট্যাটাসের একপর্যায়ে লিখেন- ‘আমার জন্য এতদিন যিনি মিডিয়াতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি, আজ থেকে তার পথের কাঁটা সরে গেলো। দোয়া রইলো তার জন্য, উনি যেন সুপারস্টার হন, তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক চারিদিকে এই কামনাই করি।’

তবে এ কথা কাকে উদ্দেশ্য করে, কেন লিখেছেন, তা স্পষ্ট করেননি ফাহিম। যদিও স্ট্যাটাসটির নিচে তার পরিচিতজন ও বন্ধুদের অনেকেই দাবি করেছেন, এক উঠতি মডেল ও উপস্থাপিকার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার কাছ থেকেই সম্প্রতি তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। ফাহিমের স্ট্যাটাসেও এমনটা আভাস মিলে- ‘আম্মু মারা যাওয়ার পর থেকে আমার দুনিয়াটা অনেক ছোট হয়ে গিয়েছিল। আমার ভবিষ্যৎ চাওয়া-পাওয়া বলতে যা ছিল, আজ তাও আমাকে ছেড়ে চলে গেলো। স্বপ্ন দেখার মতো কিছু নেই।’

তার এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়। নওরিন আহমেদের টাইমলাইন ঘুরে দেখা যায়, সোমবার তিনি সর্বশেষ পোস্ট দিয়েছেন। এতে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করা নিজের নয়টি ছবি পোস্ট করে লিখেন- ‘কারেন্টলি ইন এ চিল এস ডিপ্রেশন।’ এর কয়েক ঘণ্টা পর ফেসবুকে সুইসাইড নোটটি পোস্ট করেন ফাহিম। এর আগে নওরিনের ওই পোস্টে ফাহিম মন্তব্য করেন- ‘ভালোবাসা ভালো থাকুক সবসময়।’

ফাহিমের মৃত্যুর পর তার সুইসাইড নোট এবং নওরিনের পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। পোস্ট দুটিতে একের পর এক মন্তব্য আসতে থাকে। মন্তব্যগুলোতে মডেল ফাহিমের মৃত্যুর জন্য নওরিনকেই দায়ী করা হয়। জেনিফা শবনম নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘কী দোষ ছিল ওর (ফাহিম) নওরিন? কী এমন করেছিল যে, এভাবে চলে যেতে হলো ওর?’ কাকলী পাল মলি নামের একজন লিখেছেন, ‘এ মহিলার (নওরিন) কী হবে, কিছুই হবে না। কিছু পাবলিক নিজের স্বার্থে সবই পারে। এমন সেলফিশের জন্য নিজের এমন দামি জীবন হত্যা না করাই ভালো।’

নওরিনের শেষ পোস্টে জাকিয়া জাহান পুষ্প নামে একজন লিখেন, ‘তোমাদের মত ফটকা মেয়েদের জন্য মেয়েদের কলঙ্ক হয়। কী এমন ক্ষতি হতো মডেলিং ছাড়লে? মেরেছো ছেলেটাকে, শান্তি পেয়েছো…।’ অন্য একজন লিখেন, ‘ভালোবাসাকে মেরে ফেললা, এ কেমন বিচার তোমার নওরিন?’ আবু উবাইদা নামে একজন লিখেছেন- ‘ছেলেটাকে মাইরা ফালাইলেন?’


ফাহিমের বন্ধু-বান্ধবরা জানান, প্রায় তিন বছর আগে নওরিনের সঙ্গে পরিচয় হয় সৌরভের। পরিচয় থেকে প্রেম। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তারা একসঙ্গেই যেতেন। বিভিন্ন স্থানে দুজনের বেড়াতে যাওয়ার ছবি আপলোড করতেন ফেসবুকে। কিন্ত টেলিভিশনে কাজ করার পর থেকে পাল্টে যেতে থাকেন নওরিন। সৌরভকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে থাকেন। আবার নওরিন কোথায়, কার সঙ্গে যায়, এ বিষয়ে খবরদারি করতেন সৌরভ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায়ই বাগবিতণ্ডা হতো। সোমবার হয়তো এ নিয়েই তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ট্রলিতে সৌরভের মরদেহের ভিডিও দৃশ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে নওরিনের উদ্দেশ্যে তার বন্ধু মেহেদী হাসান শাওন লিখেছেন, ‘হ্যাঁ ফাহিম (ফাহিম শাহরিয়ার সৌরভ) আত্মহত্যা করেছে। …খুব ভালো লাগতো তোমাদের দেখে নওরিন আহমেদ ও সৌরভ। কেন এতদিনের সম্পর্কটা শেষ করে দিলে? …হয়তো তোমার ক্যারিয়ারের জন্য সে অনেক বড় ঝামেলা ছিল। তোমাকে কেউ যখন সবকিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, সব জায়গায় ওঁৎ পেতে থাকা পশুদের থেকে আগলে রাখতে চায়, তখন সে তোমাদের জীবনের বড় ঝামেলা হয়ে যায়- এটাই স্বাভাবিক। যাক, আশা করি এখন তুমি অনেক সুখি হবে। কারণ সেই ঝামেলাটা এখন আর দুনিয়াতে নাই। কখনো তোমাকে আর জ্বালাবে না, আর খোঁজখবর নিতে যাবে না, তোমাকে মিডিয়ার কাজের নামে অন্য কেউ অন্য কোনো সুযোগ নিতে চাচ্ছে কি না। আশা করি সুপারস্টার হবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here