সাবেক গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস প্রয়োগে হত্যাচেষ্টার বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য ও তাদের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক চরম অবনতি হয়েছে। যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অন্তত ২৪টি দেশ এরইমধ্যে শতাধিক রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে। রাশিয়াও হুমকি দিয়ে রেখেছে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার। কিন্তু হঠাৎ করেই উত্তপ্ত এই বিশ্ব রাজনীতির মধ্যে অনিচ্ছা সত্ত্বেও জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে গুপ্তচর হত্যাচেষ্টার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেছে যুক্তরাজ্য ও রাশিয়া। রাশিয়া এটি নিয়ে তাদের সর্বশেষ অবস্থান তুলে ধরেছে আর যুক্তরাজ্য কথা বলেছে এ ঘটনার তদন্তের বিষয়টি নিয়ে।

কূটনীতিকেরা মনে করছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর আসন্ন মস্কো সফরে রাশিয়া এই বিষয়টি আলোচনায় তুলবে। এটি অনেকটা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ কোন পক্ষে আছে তা জানার চেষ্টা করা। আগামী ২ এপ্রিল মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে মাহমুদ আলীর দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে লাভরভের বৈঠকে ইস্যুটি আলোচিত হলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী বলা হবে, সে বিষয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই ঘটনায় আমরা কোনও পক্ষ না। এমন কোনও অবস্থান আমরা নেব না, যার ফলে এর সঙ্গে জড়িত কোনও পক্ষ অসন্তুষ্ট হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১৫ মার্চ ঢাকায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশন গুপ্তচর হত্যাচেষ্টার বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরে। আর রাশিয়া এ বিষয়ে তাদের অবস্থান জানিয়ে বাংলাদেশের কাছে ২২ মার্চ একটি কূটনৈতিক চিঠি দিয়েছে। মূলত যুক্তরাজ্য পুরো ঘটনা তুলে ধরে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণবিষয়ক সংস্থায় (ওপিসিডব্লিউ) ওই ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ ভূমিকা চেয়েছে। আর যুক্তরাজ্য বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে তোলার কারণ হচ্ছে, এ মুহূর্তে ওপিসিডব্লিউর নির্বাহী পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল। সাধারণত এ ধরনের রাসায়নিক গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ এলে ওপিসিডব্লিউ তা তদন্ত করে থাকে।

অন্যদিকে ঢাকায় রাশিয়ার দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন দেশ থেকে রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের নিন্দা জানিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমরা এ সিদ্ধান্তের গভীর তীব্র নিন্দা জানাই। তথাকথিত স্ক্রিপালের ঘটনাকে এর কারণ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। আমরা এর মধ্যেই জানিয়েছি, এ ঘটনার সঙ্গে রাশিয়া যুক্ত নয়।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here