হাতের কাছে পানযোগ্য পানি পেয়ে অনেকেই তা নষ্ট করেন নানাভাবে। কিন্তু পানির কষ্ট কতটা ভয়ঙ্কর তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানে। এই যেমন এখন ভয়াবহ পানির কষ্ট অনুভব করছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। এক কলসি পানির জন্য তাদের পাড়ি দিতে হচ্ছে ১০ কিলোমিটার পথ। আর যারা ক্লান্ত শরীরে দীর্ঘ এ পথ পাড়ি দিতে পারছেন না তাদের টাকা দিয়ে কিনে পান করতে হচ্ছে পানি।

স্থানীয়রা জানান, গ্রীস্ম এলেই প্রচণ্ড তাপদাহ এবং কৃষিকাজের জন্য অতিমাত্রায় সেচপাম্প দিয়ে পানি উত্তোলনের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এ কারণে গ্রামের অধিকাংশ নলকূপেই পানি উঠছে না। লবণাক্ততায় পুকুরের পানিও পানের অযোগ্য। ফলে পানযোগ্য পানির অভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।

শোভনা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য দেবব্রত সরদার জানান, তার ওয়ার্ডে ৫০টির অধিক গভীর নলকূপ আছে। কিন্তু এসব নলকূপের গভীরতা অন্তত ৫৩০ ফুট। কিন্তু বর্তমানে মাত্র একটি নলকূপে পানি উঠছে। বাকিগুলোতে পানি উঠছে না। ফলে ১০ কিলোমিটার দূরে কাঁঠালতলা বাজার থেকে খাবার পানি আনতে হচ্ছে। অথবা সেচপাম্প থেকে ৫০ লিটার পানি ২০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পানির জন্য জনদুর্ভোগ এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও ১০ কিলোমিটার দূর থেকে নারীদের খাওয়ার পানি আনতে হচ্ছে। এটা খুবই কষ্টসাধ্য। ধানক্ষেতে পানি দেওয়ার শ্যালোমেশিনগুলোতেও পানি উঠছে না। শিগগিরই বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। সংকট উত্তরণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

বাদুরগাছা গ্রামের গৃহবধূ স্বপ্না মন্ডল বলেন, ‘উত্তর পাড়ায় নলকূপে পানি উঠছে না। তাই দুই গ্রাম ডিঙ্গিয়ে দক্ষিণপাড়ায় পানি নিতে এসেছি। কিন্তু এখানেও টিউবওয়েলে ভালো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এক কলস পানি ভর্তি করতে সময় লেগে যাচ্ছে আধা ঘণ্টা। চাপতে চাপতে ক্লান্ত হয়ে পড়তে হচ্ছে।’

গ্রামের আরেক গৃহবধূ আরতি মন্ডল বলেন, ‘খাবারের অভাব নেই, কিন্তু খাবার পানি নেই। এলাকা যেন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। দুইবার বিশ্রাম নিয়েও এক কলসি পানি ভরা যাচ্ছে না।’

শোভনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত বৈদ্য বলেন, ‘৪০ হাজার জনসংখ্যার জন্য তার ইউনিয়নে ৫ শতাধিক নলকূপ রয়েছে। কিন্তু প্রচণ্ড খরা ও কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য অতিমাত্রায় সেচপাম্প স্থাপনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ নলকূপ এখন পানিবিহীন হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নদী ও খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছেন। শোভনা ইউনিয়নেও এ কার্যক্রম চলছে। এখন থেকে কৃষিকাজে খাল ও নদীর পানি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হবে। ফলে আগামীতে সমস্যার উত্তরণ ঘটবে বলে আশা করছি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here