মালালা ইউসুফজাই

জঙ্গিদের গুলিতে আহত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ দেশ ফিরলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই। অবশ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তার এই সফরের বিস্তারিত গোপন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। কিন্তু পাকিস্তান কি এখনো তার জন্য বিপজ্জনক?

পাকিস্তানের বেশ কিছু টেলিভিশনে অবশ্য একটি ভিডিও প্রচার করা হয়, যেখানে দেখা যায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ইসলামাবাদ বেনজির ভুট্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে দেখা যাচ্ছে। যেখানে আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তার সঙ্গে মালালা ফান্ড গ্রুপের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। সবাই শহরের একটি হোটেলে উঠেছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মালালার সফর হতে পারে চারদিনের। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসীর সথে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নিজের শহর সোয়াত সফর করবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই গাড়িতে করেই বিমানবন্দর থেকে হোটেলে যান মালালা

ছোটবেলা থেকেই নারী শিক্ষা ও জঙ্গিদের নিপীড়ন নিয়ে সোচ্চার ছিলেন মালালা। ২০১২ সালে স্কুল থেকে ফেরার পথে তার মাথায় গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায় তালেবান জঙ্গিরা। প্রাণে বেঁচে যান মাত্র ১১ বছরের সাহসী মেয়েটি। ওই ঘটনাই তাকে বিশ্বজোড়া পরিচিতি এনে দেয়। পরে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা নেন এবং পরিবারের সঙ্গে সেখানেই বসবাস করতে শুরু করেন।

সুস্থ হওয়ার পর শিশুদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন মালালা। বাবা জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে শিশুদের জন্য গঠন করেন মালালা তহবিল। তার কাজের স্বীকৃতি আসতেও সময় লাগেনি। ২০১৪ সালেই সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

বিশ্বের শিশুদের শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে কাজ করলেও মালালার মন আজও পড়ে আছে তার শহর সোয়াতে। সুস্থ হওয়ার পর তিনি অনেকবারই পাকিস্তানে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন, বিশেষ করে তার এলাকা সোয়াতে। যেটি তার ভাষায় ‘পৃথিবীতে একটি স্বর্গ’।

মালালা

কিন্তু পাকিস্তান চরম রক্ষণশীল একটি দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরও তালেবানরা এখনো সক্রিয়। স্কুল-কলেজে অনেকগুলো হামলার জন্য তাদেরকেই দায়ী করা হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here