অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারত- ক্রিকেট দুনিয়ায় এই তিনটি দল মোড়ল হিসেবেই পরিচিত। তাদের নাকটাও কিছুটা উঁচো। এর মধ্যে অজিরা তো নিচের দিকের দলগুলোর সঙ্গে টেস্ট খেলতে আগ্রহই দেখায় না। তাদের টার্গেট কেবল ভারত, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কখনো কখনো অবশ্য প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ডকে নিজেদের মাটিতে আমন্ত্রণ জানায়।

এদিকে আইসিসি ‘তিন মোড়ল’ নীতি বাতিল করলেও দাপটটা এখনো তাদেরে হাতেই। তাদের চোখরাঙানিতে নীরবতা পালন করতে হয় খোদ আইসিসিকেও। এই তিন দলের সঙ্গে নিচের সারির দলগুলো যদি সিরিজ আয়োজন করতে চায়, তাহলে হাতেপায়ে ধরাটা কেবল বাকী থাকে। তারপরও লাভ হয় না। তাদের আচরণে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী বাংলাদেশের ক্রিকেট। কয়েকদিন আগেও টাইগারদের সঙ্গে নির্ধারিত সিরিজ বাতিল করে দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু এই মোড়লদেরও একদিন না একদিন কাঁদতে হয়। তাদের কান্না দেখে সবার তখন আনন্দই লাগে!

ক্রিকেট ইতিহাসে একটি লজ্জাজনক কেলেঙ্কারির জন্ম দিলেন অজি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ ও ব্যানক্রাফট। সঙ্গে ছিলেন ডেভিড ওয়ার্নারও। তাদের বল টেম্পারিং পরিকল্পনার কথা ফাঁস হওয়ার পর চোখ কপালে উঠেছে সবার। ক্রিকেটের কুলীন এ দলটি এভাবে পাড়ার ক্রিকেট দলের মত চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিতে পারে তা কল্পনাও করতে পারছে না কেউ। ঘটনাটি যদি কোনো একজন ক্রিকেটার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে ঘটিয়ে ফেলত তবে এতটা তোলপাড় হতো না। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, এটা ছিল দলীয় সিদ্ধান্ত! এতে জড়িত অধিনায়ক থেকে শুরু করে সব ক্রিকেটার।

এ ঘটনায় স্টিভ স্মিথ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। ফলে এক বছর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়াতে পারবেন না তিনি। স্মিথের সঙ্গে ডেভিড ওয়ার্নারকেও এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরুন ব্যানক্রফট নিষিদ্ধ হয়েছেন ৯ মাসের জন্য। এমনকি ১২ দশমিক ৫ কোটি ভারতীয় রূপিতে চুক্তিবদ্ধ থাকা স্মিথ এবং ওয়ার্নার আইপিএলেও খেলতে পারবেন না।

ঘটনার পর দেশে ফেরার পথে দক্ষিণ আফ্রিকার বিমানবন্দরেও ভক্তদের অপমান সহ্য করতে হয়েছে অপরাধী স্মিথকে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কিছু লোক তাকে ‘চিটার, চিটার’ বলে গালি দিতে থাকেন। উপস্থিত সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘লোকজন যে আপনাকে চিটার বলছে এতে আপনার কিছু বলার আছে?’ এতো অপমান অবশ্য মুখ বুজে সহ্য করেছেন স্মিথ, ছিলেন নির্বিকার, মুখ ছিল পানসে।

তবে সবচেয়ে বড় খলনায়ক হয়েছেন দেশে ফেরার পর। অস্ট্রেলিয়ানরা তাকে ওই চোখেই দেখছে। অনুতাপে পোড়া স্মিথ তাই ঘটনার সব দায়-দায়িত্ব নিজের কাঁধেই নিয়েছেন। যদিও তিনি আশা করছেন, একদিন হারানো সম্মান ফিরে পাবেন এবং তাকে ক্ষমা করা হবে। বৃহস্পতিবার সিডনিতে ফিরেই জরুরি সংবাদ সম্মেলনে স্মিথ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার নেতা হিসেবে সব দায় আমি নিজের কাঁধে নিচ্ছি। অন্য কারোর ওপর দোষ চাপাতে চাই না। আমি বড় ভুল করেছি। এটা আমার জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল। এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আশা করি আমাকে একদিন ক্ষমা করে দেয়া হবে। তবে এর জন্য সারা জীবন আমার অনুতাপ হবে। আশা করি এখান থেকে অন্যরা শিক্ষা নেবে। দেশকে নেতৃত্ব দেয়াটা গর্বের। নিশ্চয়ই আবার দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাব।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ‘স্যান্ডপেসার গেট’ কাণ্ডের নায়ক। চোখের পানি মুছতে মুছতেই স্মিথ বলেন, ‘এই ভুল শোধরানোর জন্য এবং এর ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণের জন্য আমি সবকিছু করব। যেন অন্যরা এ ঘটনা দেখে শিক্ষা নিতে পারে।’ পরে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে চোখে পানি নিয়েই সংবাদ সম্মেলন ছাড়তে বাধ্য হন স্মিথ।

এ কান্নায় অস্ট্রেলীয়দের মন গললেও, ক্রিকেট বিশ্বের কণ্ঠে উল্টো বিদ্রুপ। অনেকে তো আবার প্রতিশোধের সুরে বলছেন- একদিন না একদিন মোড়লদেরও কাঁদতে হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here