পিঁপড়া নামের প্রাণীটি আকারে ছোট হলেও এর বুদ্ধি এবং কর্মনিষ্ঠা কিন্তু মোটেও ছোট নয়। পোকামাকড়দের মধ্যে এরাই সবচেয়ে বড় মস্তিষ্কের অধিকারী। অনেক ক্ষেত্রেই পিঁপড়ার নিয়মানুবর্তী চলনবলন, খাদ্যসংগ্রহ, কর্মস্পৃহা ও দলবদ্ধতা দেখে বিজ্ঞানীরাই অবাক হন। বিশেষ করে কর্মী বা সৈনিক পিঁপড়াদের কর্মকাণ্ড সত্যিই আশ্চর্যকর। সৈনিক পিঁপড়াদের একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ততা ও একতা এতটাই বেশি, যে কোনো বিপদে তারা একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমনকি শুধু একতার জোরে শূন্যের ওপর কোনো ফাঁকা জায়গায় পরস্পরকে জড়িয়ে সেতুও তৈরি করতে পারে।

সম্প্রতি পিঁপড়াদের জীবন্ত সেতু বানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একটি ল্যাব। তারা জানিয়েছে, সৈনিক পিঁপড়ার এ সেতু তৈরির ক্ষমতা বিষ্ময়কর। গবেষণায় দেখা গেছে, সেতু তৈরির আগে প্রথমে একটি সৈনিক পিঁপড়া ফাঁকা জায়গায় গিয়ে নিচু হয়ে যায়। এরপর বাকিরাও তার পিছে গিয়ে একে অন্যের পিঠে ওঠে সামনেরটিকে জড়িয়ে ধরে প্রস্তে লম্বা হয়। এছাড়া সম্মিলিত শক্তি কাজে লাগিয়ে তারা সেতুর ভারসাম্যও বজায় রাখে।

গবেষণা কাজের প্রধান ড. সাইমন গার্নিয়ার বলেন, এর আগেও আমি পিঁপড়াদের বানানো বিভিন্ন কাঠামো দেখেছি ও শুনেছি। কিন্তু এ গবেষণায় আমরা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বিভিন্ন বনের পিঁপড়ারা তাদের চলার পথে শূন্যে কোনো ফাঁকা অংশ পেলে সেখানে নিজেদের ব্যবহার করে কীভাবে সেতু তৈরি করে, তা দেখার চেষ্ঠা করেছি।

গবেষণাকালীন বিশেষজ্ঞরা পিঁপড়াদের চলার পথে শূন্যে বিভিন্ন আকারের ফাঁকা দণ্ড তৈরি করেছিলেন। দেখা গেছে, পিঁপড়া ছোট থেকে বড় সবগুলোই সেতু তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। মূলত পথ সংক্ষিপ্ত করার জন্যই তারা এটা করে। যতক্ষণ সেতুটি ভেঙে না পড়ে ততক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। শুধু পথ সংক্ষিপ্ত করার কাজে নয়, নিজেদের এই একতা এরা কাজে লাগায় আরো অনেক ক্ষেত্রে। নিজেদের জন্য নতুন বাসা নির্মাণ কিংবা বাসার ভেঙে পড়া অংশ মেরামত করতেও তাদের একতার জুড়ি নেই।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here