ময়মনসিংহের ভালুকার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় গত ২৪ মার্চ একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে দগ্ধ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র দীপ্ত সরকারও মারা গেছেন। বাইশ বছর বয়সী দীপ্ত গত ছয় দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি ছিলেন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানেই তিনি মারা যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের ৫৪ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

মাগুরার বিমল সরকারের ছেলে দীপ্ত কুয়েটে বস্ত্র প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষে পড়ছিলেন। স্কয়ার ফ্যাশন লিমিটেড নামে একটি কারখানায় ইন্টার্ন করতে তারা চার সহপাঠী মিলে গিয়েছিলেন ময়মনসিংহের ভালুকায়।

দীপ্ত সরকার

গত ১০ মার্চ ওই কারখানার কাছে মাস্টারবাড়ি এলাকায় আরএস টাওয়ার নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় বাসা ভাড়া নেন দীপ্তসহ তার চার বন্ধু। ২৪ মার্চ রাতে ওই বাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে দীপ্তর বন্ধু তাওহীদুল ইসলাম তপু ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকি তিনজনকে দগ্ধ অবস্থায় ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে সিরাজগঞ্জের নুরুজ্জামান আকন্দের ছেলে শাহীন মিয়ার শরীরের ৮৪ শতাংশ, নওগাঁ জেলার বিল্লাল হোসেনের ছেলে হাফিজুর রহমানের ৫৮ শতাংশ এবং দীপ্তর শরীরের ৫৪ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহীন। আর তাদের আরেক বন্ধু হাফিজুরকে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বিস্ফোরণের পর তদন্ত করে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা জানান, গ্যাস থেকেই ওই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। ওই ভবনে আগে থেকেই তিনটি সিলিন্ডার রাখা ছিল; এর বাইরে অবৈধভাবে গাস সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে লিক করে ওই বাসায় গ্যাস জমে যায়।

এ ঘটনায় ভবনটির মালিক ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here