ফর্সা দীর্ঘদেহী। মুখে হাল্কা স্বর্ণাভ দাড়ি। কাঁধ পর্যন্ত লম্বা সোনালি চুল। শিল্পীদের আঁকা ছবিতে এভাবেই আমরা দেখি যিশুখ্রিষ্টকে। কিন্তু সত্যি কি তিনি দেখতে এরকম ছিলেন? বিজ্ঞানীরা অবশ্য দাবি করছেন‚ যিশু একদমই এরকম দেখতে ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন বেঁটে‚ কালো‚ মাথায় কোঁকড়া ঘন কালো চুল।

এই যুগান্তকারী দাবি করছেন রিচার্ড নিয়েভ। ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই অধ্যাপক আধুনিক ফরেন্সিক টেস্ট করেছেন। তিনি নমুনা হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনটি প্রাচীন মাথার খুলি। এগুলো খুঁজে পাওয়া গেছে ইসরায়েলের উত্তরে গালিলিতে। খুলিগুলো সেমাইট। এর মানে‚ যারা সেমাইটিক ভাষায় কথা বলত। খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৩৭৫০ বছর আগে এ ভাষার জাতির বিস্তার ঘটে মধ্য এশিয়া জুড়ে। যদিও সেই ভাষা আজ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত।

বিজ্ঞানীরা বলছেন‚ সে সময়ে ইসরায়েলের ইহুদি যুবকরা দেখতে যেমন ছিলেন‚ যিশুও তাদের থেকে অন্যরকম হবেন না। আর ইসরায়েলের গালিলি প্রদেশে যে ইহুদিরা তখন থাকতেন তাদের দেখতে মোটেও ককেশীয়্দের মতো ছিল না। বক্তব্যের সমর্থনে নিয়েভ দেখিয়েছেন বিভিন্ন পুরাতাত্ত্বিক কেন্দ্রের ছবি। যেগুলো প্রাচীন মানুষ নিজের হাতে এঁকেছিলেন বাইবেল লেখার বহু আগে।

এসব প্রমাণ এবং সেমাইট কঙ্কালগুলোর কম্পিউটারাইসড টোমোগ্রাফি বলছে‚ যিশুর উচ্চতা ছিল বড় জোড় ৫ ফুট ১ ইঞ্চি। গায়ের রং রোদে পোড়া। চোখের রং কালো। এক মাথা কুচকুচে কালো কোঁকড়া চুল। মুখে ঘন কালো চাপদাড়ি।

কিয়েভ অকাট্য যুক্তি হিসেবে বলছেন‚ তখনকার দিনে দাঁড়ি রাখাই ছিল ইহুদি যুবকদের মধ্যে প্রচলিত রেওয়াজ। পুরুষদের লম্বা চুল রাখাটা সমাজে ভালো চোখে দেখা হতো না। তাই যিশুর যে ছবি দেখে আমাদের চোখ অভ্যস্ত‚ সেগুলো শিল্পীর কল্পনা মাত্র। তার পিছনে ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।

যিশুর যে প্রাচীন ছবিগুলো পাওয়া যায়‚ সেখানে তাকে দেখতে রোমান পুরুষদের মতো। কিন্তু পরবর্তীকালে ইতালির রেনেসাঁর সময়ে শিল্পীদের তুলির ছোঁয়ায় যিশু হয়ে ওঠেন ককেশীয়। দ্য ভিঞ্চি‚ তিনতোরেত্তোর কল্পনায় যিশু ফর্সা‚ দীর্ঘ্কায়। তার চোখের রং নীল বা বাদামি। মুখে সোনালি দাঁড়ি। কাঁধ পর্যন্ত নেমে এসেছে ঢেউ খেলানো সোনালি চুল। কল্পনার স্বর্গীয় রূপে চলে আসে ইউরোপীয় স্পর্শ। চাপা পড়ে যায় বাস্তবের এশীয় রূপ। অথচ যিশুখ্রিস্ট ছিলেন এশিয়ার ভূমিপুত্র। কিন্তু তার প্রচলিত রূপ সেকথা বলে না। সেখানে তিনি খাঁটি ইউরোপীয়। কোনটা কল্পনা‚ আর কোনটা বাস্তব‚ তার দ্বন্দ্ব কি কোনোদিন মুছতে পারবে আধুনিক বিজ্ঞান? যদি পারেও‚ ধর্মীয় সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু থাকবে?

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here