হঠাৎ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে শুক্রবার দেশের উত্তর ও দেিণর কয়েকটি জেলার ওপর চলে তাণ্ডব। লণ্ডভণ্ড হয় ঘরবাড়ি, গাছপালা। নষ্ট হয় ফসলের ক্ষেত। ঝরে পড়ে আম-লিচুর গুটি। হতাহতের ঘটনাও কম নয়। কোনো কোনো জেলায় টিনের চালা একরকম ঝাঝরা হয়ে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা জানান, গত চার দশকের ইতিহাসে এতো শিলাবৃষ্টির আঘাত দেখা যায়নি। নিকটতীতে এত বড় শিলাও আর পড়তে দেখা যায়নি। একইদিনে রাজশাহীতে ঝড়ের গতিবেগ ছিল মাত্র ৮ নটিকেল মাইল। আবহাওয়া বিজ্ঞানের পরিভাষায় এটি কালবৈশাখী নয়। তারপরও যে ক্ষতি হয়েছে তাতে বিস্মিত আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, তাদের পূর্বাভাসে আগেই বলা হয়েছিল, মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের মধ্যভাগ জুড়েই তীব্র কালবৈশাখী এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই পূর্বাভাসকে সত্য প্রমাণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে গত শুক্রবার কালবৈশাখী ঝড় ও ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় আমাদের সময়কে জানান, অস্বাভাবিক হারে শিলাবৃষ্টি হয়েছে শুক্রবার। তবে ৫ এপ্রিল থেকে প্রকৃতি বেপরোয়া হয়ে ওঠার শঙ্কা রয়েছে।

শিলাবৃষ্টির কোনো রেকর্ড আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারাদেশে আবহাওয়ার মাত্র ৪৩টি স্টেশন রয়েছে। যেহেতু অঞ্চল বিশেষে এ শিলাবৃষ্টি হয়েছে তাই সঠিক পরিমাপ করা যায়নি। তবে এই আঘাত মারাত্মক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি এও বলেন যে, স্থানীয় সূত্র এটি চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে।

তিনি জানান, এপ্রিলে দফায় দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এতে চরম গরম অনুভূত হবে। দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কোথাও কোথাও ছড়িয়ে যেতে পারে দাবদাহ। প্রকৃতির এই রূদ্র আচরণ বহাল থাকতে পারে মধ্য মে পর্যন্ত। এ সময় মাঝারি থেকে তীব্র কালবৈশাখীর দাপট থাকবে। প্রাক কালবৈশাখীতে বঙ্গোপসাগরের আচরণও হতে পারে বিরূপ। এপ্রিলে সাগরে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের ফরমেশন জোনগুলোতে অস্বাভাবিক আচরণে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টিতে স্বাভাবিকতা নেই।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বৈশাখের আগেই কালবৈশাখী ঝড়ের ছোবলে লণ্ডভণ্ড হয়েছে রংপুরের বিভিন্ন এলাকা। একই সময়ে ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে বিভিন্ন রবিশস্যসহ আমের গুটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন দুই কৃষক। আহত হয়েছেন শতাধিক। আম ও লিচুর মুকুল ও গুটিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এ ছাড়া শিলাবৃষ্টির আঘাতেও প্রাণ ঝরেছে বেশ কয়েকজনের। আহত হয়ে হাসপাতালে ছুটেন কয়েকশতাধিক লোক।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here