কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ। দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত এ মসজিদটিকে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স’ নামকরণ করা হয়েছে। পাঁচ তলা উঁচু মিনারের মসজিদটি দূর থেকেই নজর কাড়ে। এখানে জুমার দিন প্রচুর লোকসমাগম হয়। নারীরাও আলাদা নামাজ আদায় করতে পারেন। তিন তলা মসজিদটির ভেতরে রয়েছে চারটি বড় সিন্দুক বা দানবাক্স।

স্থানীয়রা বলছেন, এই মসজিদে মানুষ দুহাত খুলে দান করেন। শুধু মুসলমান নয়, অন্যান্য ধর্মের লোকজনকেও এ মসজিদে দান করতে দেখা যায়। মানুষের বিশ্বাস, কোনও আশা নিয়ে একনিষ্ঠ মনে এ মসজিদে দান করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। রোগ-শোক ছাড়াও বিভিন্ন উপলক্ষে মানুষজন এ মসজিদে মানত করে দান করেন। যুগ যুগ ধরে এ বিশ্বাস থেকেই মানুষ এখানে দান করছেন। এটি দেশের অন্যতম বিত্তশালী মসজিদ। এর আয় দিয়েই নির্মাণ করা হয়েছে মসজিদ কমপ্লেক্সের বিশাল ভবন। নিজস্ব মাদ্রাসা ও এতিমখানা ছাড়াও বিভিন্ন মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজ এবং সেবামূলক খাতে সাহায্য করা হয় দানের টাকা। এখন বুঝেন, কত টাকাই না জমা পড়ে মসজিদের তহবিলে।

মসজিদের দানবাক্স খুলে প্রতিবারই কোটি টাকার ওপরে পাওয়া যায়। প্রতিদিন জেলার বাসিন্দারা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ সেই দানবাক্সগুলোয় অর্থ ছাড়াও স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন। গতকাল দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে ৮৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা। কয়েক মাস পরপর খোলা হয় এসব বাক্স। এর আগে খোলা হয়েছিল গত ৬ জানুয়ারি। তখন নগদ টাকা পাওয়া যায়, ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৭১। তার আগে গত বছরের ২৬ আগস্ট দানবাক্স খুলে ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

দায়িত্বশীলরা জানান, জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ৮৪ দিন পর শনিবার সকালে দানবাক্স খোলা হয়। পরে টাকাগুলো বস্তায় ভরা হয়। তারপর শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনার কাজ। বিকেলে গণনা শেষে দানের এ টাকার হিসাব পাওয়া যায় (৮৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা)। এ ছাড়াও দানবাক্সে মিলে সোনা, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের সাঈদ জানান, সাধারণত চার মাস পরপর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। তখন কোটি টাকার উপর পাওয়া যায়। তবে এবার একমাস আগেই খোলায় টাকার পরিমাণ কম হয়েছে। দানের টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। আর যে স্বর্নালঙ্কার পাওয়া গেছে তা আগের স্বর্নালঙ্কারের সঙ্গে যোগ করে সিন্দুকে রেখে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও দানে পাওয়া গবাদীপশু ছাগল, হাঁস-মুরগী প্রতি সপ্তাহেই নির্ধারিত দিনে নিলামে বিক্রি করা হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here