কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সত্যিই ভালো যাচ্ছে না। যে কোনো সময় তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তারপরও জনগণের কথা চিন্তা করেই তিন বারের এই প্রধানমন্ত্রী মনোবল হারাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেখা করতে গেলে খালেদা জিয়া তাকে এ কথা জানান। পরে কারাগার থেকে বেড়িয়ে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

অসুস্থ খালেদা জিয়াকে দেখে এসে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ম্যাডাম খুব একটা ভালো নেই। তার স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো নয়। তার আর্থারাইটিসের সমস্যাও বেশ বেড়ে গেছে, হাঁটতেও কষ্ট হয়। যেটাকে কিছুটা স্নায়বিক সমস্যা বলা হয়, সেটাও দেখা দিয়েছে। সত্যিকার অর্থেই তিনি কিছুটা স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়েছেন।’

কারাগারে খালেদা জিয়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘যে চিকিৎসকরা চিকিৎসা করতেন, তাদের এখনো ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।’ খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অবিলম্বে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে মির্জা ফখরুল দলের নেতাকর্মীদের সর্বশেষ অবস্থা তাকে অবহিত করেন। অসুস্থতা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া মন দিয়েই তার সব কথা শোনেন। এ সময় তিনি মহাসচিবকে প্রয়োজনীয় কিছু দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন।

খালেদা জিয়াকে কেমন দেখলেন- এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা যেটা জানতে চাইছেন… বন্দি জীবনে উনি (খালেদা জিয়া) অভ্যস্ত নন। তাকে যখন বন্দি করে রাখা হয়, তখন চাপ পড়েই। তবে উনার মনোবল অনেক দৃঢ়। উনি আমাদের চেয়েও দৃঢ় মনের মানুষ। উনি বার বার এ কথা বলেছেন যে, আমার জন্য আপনারা ভাববেন না। আমি ভালো আছি, শক্ত আছি এবং এসব ছোটো-খাটো বিষয় আমার কোনো সমস্যা করবে না।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল

সাক্ষাৎকালে খালেদা জিয়া তাকে কোনও জরুরি বার্তা দিয়েছেন কি না, এ প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি মনে করেন, দেশে যে সংকট চলছে তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। সেজন্য যে আন্দোলন চলমান আছে, তা তিনি চালিয়ে যেতে বলেছেন। সরকারের উচিত হবে এ বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

ফখরুল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও মহাসচিবের একান্ত সহকারী ইউনুস আলী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ৭ মার্চ মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাত নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার বোন সেলিনা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতিমাসহ পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার কারাগারে গিয়ে দেখা করে এসেছেন। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরাও দুই দফা কারাগারে দেখা করেছেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের পর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ওই কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনিই একমাত্র বন্দি। তবে তাকে দেখাশুনার জন্য কারাগারে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক ও নার্স থাকেন।

একইদিন দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির আগে অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা হবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তিই আমাদের এক নম্বর দাবি, এক নম্বর শর্ত। তাকে মুক্ত করতে হবে। এরপর অন্য কিছু আলোচনা হবে।’

যদিও গতকাল এ বিষয়ে ফেনীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আবারও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে বন্দি করেছে আদালত। তাকে মুক্তিও দিতে পারে আদালত। এখানে সরকারের কোনো করণীয় নেই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় সরকার হস্তক্ষেপ করে না।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here