অনেকেই হয়তো ভাবছেন ছাগলের সঙ্গে পাকিস্তানের উড়োজাহাজ সংস্থার সম্পর্ক কী। আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্ক না থাকলেও হঠাৎ পাহাড়ি ছাগলের মহাবিপন্ন এক প্রজাতির সঙ্গে সম্পর্ক জুড়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটির।

স্বাধীনতার পর থেকেই অনেক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে এগিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ)। কিন্তু ক্রমাগত লোকসানের ধাক্কায় সংস্থাটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। এ নিয়ে এখন পাকিস্তানে চলছে বিতর্ক। এরই মাঝে নিজেকে ফের বদলে নিয়েছে পিআইএ। শনিবার সংস্থার লোগোতে পরিবর্তন হয়েছে। উড়োজাহাজের পিছনের ডানায় উঠে এসেছে মারখোর নামে অতি বিপন্ন পাহাড়ি ছাগলটির প্রতিকৃতি।

মারখোর
মারখোর এর বাংলা নাম সাপশিঙি বনছাগল। অর্থাৎ সাপের মতো প্যাঁচালো এই পশুর শিং। যা পাকিস্তানের জাতীয় পশু।

পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, অভিনব ও বিপন্ন এই প্রাণীর ছবি দেওয়া লোগো ব্যবহারে বিশ্বজুড়ে ছড়াবে মারখোরের কথা। সেইসঙ্গে পাল্টে যাবে সংস্থার লুকও। এটি বহুজাতিক অন্যান্য উড়োজাহাজ সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য দরকারি। এর আগেও পিয়া তার ডিজাইন পরিবর্তন করেছে।

কী এই মারখোর ?
‘মারখোর’ শব্দটি দুটি ফার্সি শব্দ ‘মার’ ও ‘খোর’ নিয়ে তৈরি। ফার্সিতে ‘মার’ অর্থাৎ ‘সাপ’ এবং ‘খোর’ অর্থাৎ ‘ভক্ষক’। এর মানে দাঁড়ায়-যে প্রাণী সাপ মেরে খেতে পারে। বন্য ছাগলটি সাপ মারতে পারে। তাই এর নাম মারখোর। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে এদের সাপের মতো পেঁচিয়ে থাকা শিং আছে। তাই এর নাম মারখোর।

আফগানিস্তান, উত্তর পাকিস্তান, দক্ষিণ তাজিকিস্তান, দক্ষিণ উজবেকিস্তান, জম্মু ও কাশ্মীরে দেখা মেলে এই মারখোরের। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কমতে কমতে ২০০০ এর মতো মারখোর টিকিয়ে রেখেছে নিজেদের অস্তিত্ব। এই কারণে পাকিস্তান সরকার এই বিপন্ন প্রাণীকে জাতীয় পশুর তকমা দিয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here