কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রীদের ওপর নির্যাতন এবং এক ছাত্রীকে রক্তাক্ত করার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত আরা এশাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি। মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে প্রথমে হল, পরে ছাত্রলীগ এবং শেষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার প্রত্যদর্শী একাধিক ছাত্রী জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে হলের তিন ছাত্রীকে একটি কে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন এশা। ওই ছাত্রীদের চিৎকার শুনে সেখানে ছুটে যান উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা খানম। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মোর্শেদা করে জানালার কাচে লাথি মারলে তার পা কেটে যায়।

খবর পেয়ে অন্য ছাত্রীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এশাকে মারধর করে তাকে আটকে রাখেন। ছাত্রী নির্যাতন করায় তার বহিষ্কারের দাবিতে সাধারণ ছাত্রীরা তাদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। রাত ৩টা ৫০ মিনিটে হলের ভেতরে তারা ওই ছাত্রলীগ নেত্রীর কুশপত্তলিকা পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেন। এমনকি এশাকে হলের মাঠে নিয়ে গিয়ে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে শাস্তি দেন শিক্ষার্থীরা।

আহত মোর্শেদা সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তার আত্মীয়ের বাসায় চলে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। তবে হলের ছাত্রীরা জানান, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রীদের প্রথম দিন থেকেই নিজের কক্ষে নিয়ে মারধর করে আসছিলেন এশা। কিন্তু ভয়ে কেউ-ই মুখ খোলেননি।

এ বিষয়ে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘সুফিয়া কামাল হলের এক ছাত্রীকে ইফফাত জাহান এশা চরমভাবে নির্যাতন করেছে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকার যোগ্যতা হারিয়েছে। ফলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

এদিকে ঘটনার পর মধ্যরাতেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এশাকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ইফফাত জাহান এশাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here