চিয়ারলিডারের কথা ভাবতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুন্দর জিরো ফিগারের কিশোরী কিংবা তরুণী। ক্রিকেটে মূলত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মাধ্যমেই প্রবেশ করেছে এই শারীরিক কসরত। মাঠে চার-ছক্কা-উইকেট পতনের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের সঙ্গে চিয়ারলিডাররা শুরু করেন নাচের ভঙ্গিমায় অঙ্গ দোলানো, যা বিনোদনের বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। মাঠের ম্যাজিক গ্যালারিতে ছড়িয়ে দেন এই চিয়ারলিডাররাই।

এ কাজের জন্য ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে আসেন তরুণীরা। তবে চিয়ারকন্যাদের ভারতের বিষয়ে অভিজ্ঞতা কেমন তা শুনলে চমকে উঠতে হয়। দেশটির এক প্রচারমাধ্যমে তারা খোলাখুলি জানালেন সেই অভিজ্ঞতার কথা। পোশাক, অভিজ্ঞতা, অনুভূতি- সব বিষয় নিয়েই কথা বলেছেন তারা। যদিও তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

এক চিয়ারলিডার তার বিস্ফোরক মন্তব্যে বলেন, ‘প্রাশ্চাত্যে যখন কোনও নারী নৃত্যশিল্পী নাচেন, তখন তার পোশাক কিংবা শরীর নিয়ে কেউ ভাবেই না। কিন্তু এখানে (ভারত) তার উল্টো। এদেশে চিয়ারলিডারদের সেক্স অবজেক্ট হিসাবেই দেখা হয়।’

অন্য এক চিয়ারলিডার বলেন, ‘আমি একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে টুর্নামেন্টে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, এখানে যৌন পণ্য হিসেবেই আমাকে দেখা হয়। প্রায়ই দর্শকদের যৌন-ইঙ্গিতপূর্ণ ব্যবহারও সইতে হয়।’

ভারতীয় দর্শক প্রসঙ্গে এক চিয়ারলিডার বলেন, ‘মাঠে অনেকেই এমন অঙ্গভঙ্গি করে, মন্তব্য করে যা সহজে মেনে নেওয়া যায় না। এড়িয়ে যেতে বাধ্য হই আমরা। ক্ষমাসুলভ দৃষ্টিতে দেখি।’

আইপিএলে এসে মোহভঙ্গের পর উঠতি মডেলদের তাই এ পেশা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বর্তমান চিয়ারলিডাররা। বলছেন, ‘যদি কেউ চিয়ারলিডার হতেই চায়, তাহলে অবশ্যই নাচ শিখে আসা উচিত। কারণ সেক্ষেত্রে এই পেশা হতাশ করলে, নৃত্যশিল্পী হিসেবে জীবনযাপন করা যেতে পারে।’

আইপিএলের বিরুদ্ধে এর আগে অভিযোগ উঠেছিল বর্ণবিদ্বেষের। শ্বেতাঙ্গ মেয়েদের ছোট পোশাক পরানোর বিরুদ্ধে অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন। নাম না জানানো সেই চিয়ারলিডারও মেনে নেন, আইপিএলে বর্ণবিদ্বেষ এখনো পুরোমাত্রায়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here