২০১৩ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া একেবারেই কমিয়ে দেয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাঁচ বছর পর আবারও তাদের দুয়ার খুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশিকর্মীদের জন্য। কর্মী নিতে বুধবার দুবাইয়ের স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ১২টায় বাংলাদেশের সঙ্গে আমিরাত সমঝোতা স্মারক সই করে। ১৯টি খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেবে দেশটি। আর সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ধরা হয়েছে ৬০০ ডলার বা ৫০ হাজার টাকা।

এদিকে সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নের জন্য উভয় দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এ কমিটিকে। স্মারকে কর্মী নিয়োগের বিধান, পদ্ধতি, রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি ও উভয় দেশের সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য, কর্মীদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা, এমপ্লয়ারদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, নিয়োগ চুক্তির বিধান উল্লেখ রয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নারী-পুরুষ উভয় শ্রেণির কর্মী যাবেন সমঝোতা স্মারকের অধীনে। তবে প্রথম পর্যায়ে শুধু নারীরা যাবেন। তবে সমঝোতা স্মারকের আওতায় কত সংখ্যক কর্মী দেশটিতে যাবেন, তা নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা অবশ্য বলছেন, আরব আমিরাতের চাহিদার বিপরীতে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে। এখানে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। আর কর্মীদের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন হবে ৬০০ ডলার। কাজ ও কর্মীর দক্ষতার ভিত্তিতে এর চেয়ে বেশি বেতনও হতে পারে।

২০০৮ সালে বাংলাদেশ থেকে আমিরাত চার লাখ ২০ হাজার কর্মী নেয়। ২০১২ সালে যায় দুই লাখ ১৫ হাজার কর্মী। কিন্তু তার পরের বছর থেকেই দেশটিতে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিতে ভাটা পড়ে। এর কারণ, ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো’র স্বাগতিক দেশ হতে চেয়েছিল তেলসমৃদ্ধ আরব আমিরাত। কিন্তু বাংলাদেশ ভোট দেয় রাশিয়ার পক্ষে। তাই বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় ক্ষুব্ধ আমিরাত। এর পর ২০১৪ ও ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটি সফরে গিয়ে কর্মী নিতে অনুরোধ জানান। অবশেষে মন গললো দেশটির সরকার প্রধানের।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here