শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে আরেকটি স্বীকৃতি পেয়েছেন শেখ হাসিনা। একই সময়ে এক ছাত্রলীগ নেতার অপকর্মের ভিডিও শত্রুর মুখে হাসিও ফুটিয়েছে। ভিডিওটি প্রশ্ন তুলছে– প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না কেন?

আগে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রধানমন্ত্রীর প্রসংশিত হওয়ার খবরটিই বলি। হ্যাঁ, টাইম ম্যাগাজিনের করা বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিনটি এমন স্বীকৃতি দেয়ার কারণ স্পষ্ট করেই বলেছে। অসম সাহস এবং উদারতা নিয়ে শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছেন। এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্যই প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানিত করেছে টাইম ম্যাগাজিন।

শেখ হাসিনার জন্য এমন স্বীকৃতি নতুন নয়। ২০১৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারী নেত্রীদের তালিকায় রেখেছিল তাকে। তারপর ২০১৬ সালে তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতাদের তালিকায় দশম স্থানে স্থান দেয় ফরচুনা ম্যাগাজিন। সমমনা, সমর্থক এবং ‘অরাজনৈতিক’ নাগরিকদের অনেকেই তখন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গর্ব করেছেন। কিন্তু এবার কাউকে তেমন সুযোগ দেননি চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতা রনি। তিনি এক কোচিং সেন্টারের পরিচালককে পিটিয়েছেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চাদা না দেয়ায় কোচিং সেন্টারের পরিচালককে পেটানো হয়। প্রত্যাশিতভাবেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রনি। তবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিন্দা শুরু হওয়ায়, সংবাদমাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসায় ছাত্রলীগ থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন ঠিকই বাঁশি বাজাচ্ছিলেন কিনা এ নিয়ে বিতর্ক আছে, থাকবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে টাইম ম্যাগাজিন সম্মানিত করার দিনেও দেশের মানুষ যে কোচিং সেন্টারে রনির বর্বরোচিত কাণ্ড দেখে ধিক্কার জানিয়েছে তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে দেশে কারো শান্তি, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সময়ে দেশের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানিত হওয়া নিয়ে আলোচনায় খুব বেশি উৎসাহ দেখানো কি সম্ভব?

ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জল অতীত আছে। কিন্তু সেই অতীত ভুলিয়ে দিচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রলীগের কিছু কর্মকাণ্ড। মাঝে মাঝে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছাত্রলীগের অপকর্মের এত খবর আসে যে, তখন বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়। গত বছরের নভেম্বরে তাই ডয়চে ভেলেও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যার শিরোনাম ছিল ‘ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্য’: কলুষিত রাজনীতির ফল।

তবে সবাই জানেন, দৌরাত্ম্য না কমার প্রধান কারণ রাজনৈতিক প্রশ্রয়। রনি যে এখনো গ্রেপ্তার হয়নি তার আসল কারণও তাই। প্রশ্রয় পেয়ে পেয়েই রনি, বদরুলরা উদ্ধত, বেপরোয়া হয়ে উঠে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখে সবসময়ই বিএনপি, জামায়াতের সমালোচনা শুনি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা হবেই। তাছাড়া যাদের মুক্তিযুদ্ধ, ১৫ আগস্ট, জেলহত্যা, ২১ আগস্টের মতো কালো অতীতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগ আছে, তাদের সমালোচনা অযৌক্তিকও নয়। কিন্তু ছাত্রলীগ তো চেনা প্রতিপক্ষদেরও ম্লান করে দিচ্ছে! এমন ‘শত্রু’ থাকলে আওয়ামী লীগের অন্য শত্রুর কী দরকার?

লেখক : আশীষ চক্রবর্ত্তী

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here