ফ্লোরিস্ট ডেইজি বা চন্দ্রমল্লিকা, পিস লিলি, রঙধনু গোলাপ বা রেইনবো রোজ (একই গোলাপে সাতটি রঙ), ব্ল্যাক পার্ল গোলাপ (একই গোলাপে দুটো প্রধান রঙ)। এ গাছগুলো বাংলাদেশে নতুন বা প্রায় অপরিচিত। তাই এর বীজ আসে বাইরে থেকে। আনানো। সবার উদ্দেশ্য এখন লাগানো ও পরিচর্যার নিয়ম জেনে নেই। প্রথমে একই নিয়ম, যা সবগুলোর জন্যই প্রযোজ্য-

? টবের মাটি অবশ্যই বেলে মাটি হতে হবে। টবের ৫০% মাটি, ২৫% শাকসবজির খোসা, ১০% কলার খোসা, ১০% ডিমের খোসার টুকরো, ৫% ব্যবহৃত তবে শুকনো চায়ের পাতি মিশিয়ে প্রস্তুত করতে হবে
? টবে পানি জমে থাকলে শিকড় পচে যাবে ও ডেঙ্গু মশা জন্মাবে। টবের নিচে পানি নিষ্কাশনের ফুটো থাকতে হবে। আবার মাটি শুকনো থাকাও চলবে না, হাল্কা ভিজা থাকতে হবে। স্প্রে করে পানি দিতে পারলে সবচে ভাল। মাটি ঝুরঝুরে থাকলে খুব ভাল।
? ইনডোর প্ল্যান্ট বারান্দায় বা জানালায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে, রোদের সরাসরি আলো দুই ঘণ্টার বেশি পরা যাবে না। সেই সঙ্গে অবশ্যই শিশুদের নাগালের বাইরে ঝুলাতে হবে বা রাখতে হবে। আর আউটডোর প্ল্যান্ট ছাদে বা বাগানে সূর্যের আলোয় রাখতে হবে। মাঝে-মধ্যে টবের অবস্থান ঘুরিয়ে দিতে হবে যেন সব দিকেই আলো পড়ে।

এবার গাছ ভিত্তিক নিয়ম :

ফ্লোরিস্ট ডেইজি বা চন্দ্রমল্লিকা :
ডেইজির অনেক প্রজাতি আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ফ্লোরিস্ট, যা ইনডোর প্ল্যান্ট। এই ফুল বসন্তে ও গ্রীষ্মে ফুটে। দুই বছর বাঁচে, এর মধ্যেই নতুন চারা তৈরি করতে হয়। ঘরের দূষিত বাতাস পরিশোধনকারী গাছের মধ্যে এক নম্বরেই আছে এ গাছ। ঘরের বাতাসে দূষিত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি কমায় ও বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ করে। যদি পরিবারের সবার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চান তবে অবশ্যই এ গাছ বাসায় রাখুন।

বীজ ও কলম উভয় থেকে গাছ হয়। শুকিয়ে যাওয়া ফুলের ভিতরে বীজ পাওয়া যাবে। ফ্লোরিস্ট ডেইজি গাছের বীজ মাটি দিয়ে ঢাকতে হয়। সাধারণত এক থেকে তিন সপ্তাহর মাথায় অঙ্কুর বের হয়। তারপর পলিথিন বা প্লাস্টিকের কভার খুলে স্বাভাবিক ইনডোর প্ল্যান্টের মত পরিচর্যা করতে হবে। পুরনো ডাল ছাঁটা খুব জরুরি। এই গাছের পাতা বা ফুল ফেটে গেলে বিষক্রিয়া হয়। তাই গাছ নাগালের বাইরে ঝুলাতে বা রাখতে হয়। তবে ইউরোপে এ গাছ থেকেই বেশিরভাগ মধু তৈরি হয়।

পিস লিলি
ঘরের দূষিত বাতাস পরিশোধনকারী গাছের মধ্যে পিস লিলির অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশে যে শাপলা ফুল পাওয়া যায় সেটাও এক ধরনের লিলি, তবে ‘ওয়াটার লিলি’। সেটির সবজি হওয়া ছাড়া আর বিশেষ কোনো গুণ নেই। আর এটা লিলিরই ভিন্ন প্রজাতি ‘পিস লিলি’। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এটি বিশেষ কাজে করে।

পিস লিলিও ইনডোর প্ল্যান্ট। এর বীজ সমান মাটি দিয়ে ঢাকতে হবে। সাধারণত এক মাসের মাথায় অঙ্কুর বের হয়। তারপর পলিথিন বা প্লাস্টিকের কভার খুলে স্বাভাবিক ইনডোর প্ল্যান্টের মতো পরিচর্যা করতে হবে।

গাছ সর্বাধিক ৪ ফুট লম্বা হয়। পিস লিলির ফুল আসতে দুই বছর সময় লাগে। বসন্ত ও গ্রীষ্মে ফুল ফুটে। গাছের ফুল স্বাভাবিকভাবে কালো হয়ে গেলেই তার ভিতর বীজ পাওয়া যায়। শিকড় থেকে বের হওয়া নতুন গাছ আরও ভালো হয়।

রঙধনু গোলাপ
শতভাগ আউটডোর প্ল্যান্ট। বীজ পানিতে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে তারপর টিস্যুপেপারে মুড়িয়ে ফ্রিজে রাখতে হয়। শিকড় বের না হওয়া পর্যন্ত কৌটায় রাখতে হবে। শুকিয়ে গেলেই পানি দিতে হবে। আর শিকড় গজিয়ে গেলেই বুনতে হবে সাবধানে। তবে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু বীজ আপনি বাংলাদেশি স্টাইলে সরাসরি বুনে দেখতে পারেন। চারা গজানোর পর তার যত্ন-আত্তির নিয়মকানুন বাংলাদেশের আর দশটা পরিচিত লাল রঙের গোলাপ গাছের মতোই।

পরামর্শ দিয়েছেন: তাওহীদুর রহমান ডিয়ার, পরিবেশবাদী

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here